Wednesday 12 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: কাদের-সাদ্দামসহ ৭ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৭ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৮

-কোলাজ ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ দাবি জানান। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

যুক্তিতর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যা, আহত এবং সহিংসতার ঘটনায় আসামিদের ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এদিন টানা ষষ্ঠ দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। পরে যুক্তিতর্ক শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিম, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

গত ৪ আগস্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ধারাবাহিক শুনানিতে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, উসকানিমূলক বক্তব্য ও পরিকল্পনা দিয়েছেন। এ সময়ের বিভিন্ন ফোনালাপ, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য আলামত উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন দাবি করে, আন্দোলন প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো, সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। ৭ আসামিই বর্তমানে পলাতক।

এর আগে গত ২ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দেন। আর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর