Wednesday 12 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গোপালগঞ্জের অন্তরের হাতে কলমের বদলে ক্যানসারের রিপোর্ট

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫১

অন্তর শেখ।

গোপালগঞ্জ: এসএসসিতে সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়ে দরিদ্র পরিবারকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল গোপালগঞ্জের কিশোর অন্তর শেখ। কিন্তু সেই স্বপ্নে ঝড় হয়ে এসেছে মরণব্যাধি।

যে বয়সে একবুক স্বপ্ন নিয়ে নতুন পৃথিবীর দিকে পা বাড়ানোর কথা, সেই বয়সে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে একটি তরতাজা প্রাণ। যে হাতে শক্ত করে ধরে থাকার কথা ছিল আগামীর স্বপ্ন গড়ার কলম, সেই হাত কাঁপছে রোগের যন্ত্রণায়; আর মুঠোয় ধরা জীবনের এক নির্মম ও কঠিন বাস্তবতার রিপোর্ট- ব্লাড ক্যানসার। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী অন্তর শেখ আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

কুশলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুলু মিয়া শেখ একজন সাধারণ ও দরিদ্র কৃষক। বাবার সেই স্বপ্নের প্রতিদানও দিয়েছিল অন্তর। খাটুনি আর মেধার জোরে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছিল এ প্লাস। অভাবের ঘরে সেদিন যেন চাঁদের আলো ফুটেছিল। পরিবার ও প্রতিবেশীর মুখে যখন গর্বের হাসি, ঠিক তখনই নেমে আসে এক কালবৈশাখী!

বিজ্ঞাপন

এসএসসি পাসের পরপরই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তর। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে দুরারোগ্য ব্যাধি ব্লাড ক্যানসার (লিউকেমিয়া)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তরকে সুস্থ করতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। একজন হতদরিদ্র কৃষকের পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগানো অসম্ভব। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এরই মধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবারটি। মাথা গোঁজার বসতভিটা ছাড়া তাদের আর কোনো চাষের জমি নেই। পরিবারের একমাত্র সম্বল পালিত গাভীটিও বুকফাটা কষ্টে বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করে কোনোমতে এক মাসের মতো চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু অন্তরের চিকিৎসা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে নাড়িছেঁড়া ধন, অথচ টাকার অভাবে কিছুই করতে পারছেন না অসহায় মা-বাবা। প্রতিদিন বাড়ছে সময়ের চাপ আর ভারী হচ্ছে অনিশ্চয়তার মেঘ।

অন্তর শেখের মেডিকেল রিপোর্ট।

ভুলু শেখ নিজেও বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো কোনো সামর্থ্য আর আমার অবশিষ্ট নেই। যা ছিল, সব শেষ করে ফেলেছি। আমি দেশবাসীর কাছে আমার সন্তানের জীবন ভিক্ষা চাই। দয়া করে আমার ছেলেকে বাঁচাতে আপনারা এগিয়ে আসুন।’

অন্যদিকে, কান্নাজড়িত কণ্ঠে অন্তরের মা ঝুমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল, ছেলে লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবে; মানুষের সেবা করবে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের কেন এমন পরীক্ষায় ফেললেন, জানি না।’

অন্তর শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। তার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা তাহের শেখ। তিনি জানান, অন্তর অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী ছেলে। প্রতিবেশী নবনী শিকদারও অন্তরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সমাজের বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সবার বিশ্বাস, সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা পেলে মেধাবী এই শিক্ষার্থী আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম-

বিকাশ ও নগদ নম্বর: ০১৬০৯৫৩৬৭৬১

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর