ঢাকা: সরকার-টু- সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে ১২ বছরে ১১৭টি এলএনজি কার্গো আমদানি করবে সরকার। চলতি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদে এসব কার্গো আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘গানভর ইউএসএ এলএলসি’ এই কার্গো সরবরাহ করবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে এসব এলএনজি কার্গো ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গানভর থেকে চলতি ২০২৬ সালে ৫ কার্গো, ২০২৭ সালে ৬ কার্গো এবং ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট কার্গো ২০২৯ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০টি কার্গো করে কেনা হবে।
এছাড়া বৈঠকে আরও দুটি পৃথক প্রস্তাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬টি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি (প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে) এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে দুই কার্গো এলএনজি (জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ) এবং হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি (প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বৈঠকে সৌদি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার (প্রতি মেট্রিক টন ৪২১.৬৭ ডলার); মরক্কো থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার (প্রতি মেট্রিক টন ৮৯১.৬৭ ডলার) ও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার (প্রতি মেট্রিক টন ৬৭৭.৩৩ ডলার) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্যের মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল (প্রতি মেট্রিক টন ৪১৬ ডলার); ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ লাখ লিটার (প্রতি লিটার ১.১৫ ডলার) পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি (প্রতি মেট্রিক টন ৫১৪ ডলার) এবং অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (প্রতি কেজি ৭৮.৯৬ টাকা) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অ্যানরয়েড ট্যাব কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি সরবরাহ করবে বাংলাদেশ নেভির ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কূস লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা।