ঢাকা: মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। মাদক কারবারি ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটিটিসি ও ডিবিকে ২৪ ঘণ্টা মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা যথাযথভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনাররা, উপ-পুলিশ কমিশনাররা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনাররা, সহকারী পুলিশ কমিশনাররা, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জরা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।