ঢাকা: দীর্ঘ চার বছর আটকে থাকা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান শুরু করেছে সরকার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক- কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধপ্রাপ্ত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করে আবেদন ‘আইবাস++’- এর মাধ্যমে প্রস্তুত করহয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণের এ অর্থ পরিশোধে এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের পাওনা বকেয়ার জট কাটাতে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শিক্ষকদের স্ব স্ব ব্যাংক একাউন্টে এ অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – ছবি : সংগৃহীত
কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত এ দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতিমাসে যে টাকা জমা দেন, এর সঙ্গে সরকারও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে একটি অ্যামাউন্ট জমা করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসর নেওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা যাতে একটি ভালো পরিমাণ অর্থ হাতে পান। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, চাকরি শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল।
শিক্ষকদের এ হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ যারা নীতি, নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তবে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের ‘দীনতা-হীনতাই’ প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা সরাসরি যার যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি অত সহজ ছিল না। কারণ, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট চালিয়েছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত এই তহবিল দুটিও রেহাই পায়নি। জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।
এর ফলে সারাজীবন শিক্ষার আলো ছড়াতে জীবনের সোনালী সময় পার করে দেওয়া শিক্ষকগণ জীবনের এই প্রান্তে এসে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ২০২২ সাল থেকে এই তহবিল হতে কোনো টাকা পাচ্ছিলেন না। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও দেখা যায় এই দুই ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ফলে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষকের দুরবস্থা চিন্তা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ এই টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতদিন নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে- যাতে তাদের আর কোনো ভোগান্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা সইতে না হয়। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক প্রমুখ।