চট্টগ্রাম: জেলার সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সেই পুরনো জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমে ছিল। ঘটনা তদন্তে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে স্টেশন রোডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শনে এসে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান এসব তথ্য জানান।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব সিদ্ধার্থ ভৌমিক-এর সই করা এক অফিস আদেশে ১১ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে। ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে শিল্প সচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, কালকে যে ঘটনাটা ঘটেছে, এটি কিন্তু কমপ্লায়েন্স একটি ইয়ার্ড। ইন্টারন্যাশনালি তাদের যা করতে হয়, সেটা তারা করেছিল। তাদের সেফটি অডিটও করতে হয়। করেছিল। এরপরও গতকালের দুর্ঘটনা ঘটেছে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। আহতদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, “এই খাত খুবই প্রমিসিং একটা খাত। এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যা যা করার করা হবে। গত পরশু দিনই সর্বোচ্চ পর্যায়ের যে কমিটি এই খাত নিয়ে, যেটিতে পরিবেশমন্ত্রী আহ্বায়ক, তারা বসেছেন। যা যা প্রতিবন্ধকতা সেগুলো দূর করে কীভাবে গ্রিন শিপ ইয়ার্ড করা যায়। গতকালের যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, এখন আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় এটার তদন্ত করা।
শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিস্ফোরক অধিদফতরের যারা এখানে আছেন তারা দেখেছেন, হাইড্রোজেন সালফাইড এখানে আছে। সেটা কীভাবে রিমুভ করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।
এরই মধ্যে কি কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা আছেন। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনও একটি কমিটি করেছে।
খুবই গুরুত্ব সহকারে বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখছি কেন ঘটনাটা ঘটল। যদি এখানে কারো কোন অবহেলা থেকে থাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে।”
শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কোন দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আছে কিনা, থাকলে তাদের অবহেলা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) ছিল কি না, উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা ও অদক্ষতা ছিল কিনা, ইয়ার্ডে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ছিল কিনা এসব বিষয়েও কমিটিকে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরনো জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নি:সরণে ৯ জন নিহত হয়। আহত হয় আরো ৭ জন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ওই শিপ ইয়ার্ডে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই জাহাজ কাটার কাজ চলছিল বলে শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ। এছাড়া সরকারি একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটিতে গ্যাস জমে ছিল। গ্যাস মুক্ত না করেই সেখানে কাজ চলছিল।