Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা লুটে পেশাদার ছিনতাইকারী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৫ আগস্ট ২০২৬ ১৮:০২ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ২১:১৮

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে অধিকাংশই পেশাদার অপরাধী। গ্রেফতার হওয়া ৫ জনের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলার তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

সিসিটিভি ফুটেজ ও গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় সরাসরি আটজনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিললেও এখনো অধরা রয়েছে চক্রের মূলহোতা। তার নাম পরিচয় প্রকাশ না করলেও ডিবি পুলিশ বলছে, মূলহোতা একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লুট হওয়া টাকার মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১২ লাখ টাকা। মূলহোতাসহ বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা হলেন— মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।

তাদের কাছ থেকে চারটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুট হওয়া ১২ লাখ টাকা, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকি-টকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বরের যানবাহনের নম্বর প্লেট এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। পাম্পের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন, সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান ও কাভার্ডভ্যানের চালক খোরশেদ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে যাচ্ছিলেন।

পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬ থেকে ৭ জন তাদের বহনকারী কাভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে। এ সময় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করা হয় এবং আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তারা আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম অজ্ঞাত ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

– ছবি : সংগৃহীত

তিনি বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফর-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ী-কে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে লুট হওয়া তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে পোস্তগোলা এলাকা থেকে লুট হওয়া আরও নয় লাখ টাকাসহ সাগর বাড়ৈ-কে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে গ্রেফতার পাঁচজনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, সাগর বাড়ৈর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। তিনি একজন পেশাদার অপরাধী। ঢাকায় এর আগেও একই কায়দায় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা আটজনকে শনাক্ত করেছেন। গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর বাইরে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার কথাও জানা গেছে। মূলহোতাসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং লুট হওয়া বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান চলছে।

লুটের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, চক্রের মূল সদস্যরা বেশি টাকা নিয়েছে। অন্যরা যে ধরনের সহায়তা করেছে, সে অনুযায়ী আনুপাতিক হারে টাকা ভাগ হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণে ঢাকার আরও কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মূলহোতা এখনো পলাতক। গ্রেফতারদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ছিনতাইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলহোতাকে গ্রেফতার করা গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, এই চক্রকে পুরোপুরি শনাক্ত ও গ্রেফতার করা গেলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পলাতক মূলহোতার বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে মূলহোতা এবং পলাতক অন্য সহযোগীদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি ডিবি। তাদের গ্রেফতার এবং বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর