ঢাকা: সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধার জন্য নতুন যে পে-স্কেল করা হয়েছে, সেটা অনেকটাই চূড়ান্তের পথে।’
এর আগে রোববার নবম পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।
ফলে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
প্রসঙ্গত: অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
জাকির আহমেদ খান কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
এখন সেই সুপারিশ ও পরবর্তী পর্যায়ের পর্যালোচনার ভিত্তিতে সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যেকোনো সময় নবম পে স্কেলের ঘোষণা আসতে পারে।
ব্রিফিং-এ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ইশতেহারে উল্লেখ করা কর্মসূচির বাইরেও সরকার বেশ কিছু কাজ করেছে। অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আগের সরকার লোপাট করে দিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২২ সালের পর থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার পর তিনি অর্থের ব্যবস্থা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে ২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ–পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।