ঢাকা: সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ-কে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে- বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি জানান, সাবেক এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে বেনজীর আহমেদ যেন সেখানে কোনো ধরনের আইনি সুযোগ-সুবিধা বা আশ্রয় না পান, সে বিষয়েও দেশটির সরকারকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক কাজ করছে, যেখানে ইতোমধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, সরকার সব রাজনৈতিক দলের মতামত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের জ্বালানি খাত মূলত আমদানিনির্ভর এবং খনিজ সম্পদের উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বাপেক্স প্রতিষ্ঠা করলেও বিগত ১০-১৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। এই সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব না হলেও সরকার পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং মায়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া ডকুমেন্টে সংবিধান ‘সংশোধন’ করার কথা বলা হলেও এখন আর সেই শব্দটি মানা হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের শর্তানুযায়ী ক্ষমতায় আসা দলগুলো নির্বাচনের আগে তাদের নোট অব ডিসেন্ট জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই সনদ বাস্তবায়ন করবে, তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী প্রমুখ।