Monday 17 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ব্যাংক ঋণের ৪ শতাংশ কৃষিতে বিতরণ বাধ্যতামূলক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪৩

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ । এত দিন ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত আড়াই শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা ছিল।

নতুন এই নীতির ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনে নতুন কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করাই নতুন নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। কৃষিঋণ কর্মসূচির তদারকি জোরদার করতে ‘ওয়েব বেসড এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার’ও চালু করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় কৃষকদের ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলবদ্ধ জামানত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য অর্থায়ন সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন আয়-উৎসারি কর্মকাণ্ডেও দলবদ্ধভাবে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং দলের সদস্যসংখ্যার সীমা শিথিল করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের মতো খাতকে কৃষিঋণের আওতায় আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্লুবেরি ফল, শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা এবং ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন কর্মকাণ্ডেও ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রকৃত কৃষক শনাক্তে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহার করা যাবে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কৃষকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে কৃষি খাতে অর্থায়ন বাড়বে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।