Monday 17 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সরকারের ১৮০ দিন / সরকার জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করবে: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:২৩

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, পাঁচ বছরের মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিন রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ‘ধ্বংসস্তূপ’ পরিষ্কার করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ভিত্তি তৈরির সময়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্য দিয়ে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। জনগণের সেই গণঅভ্যুত্থান ৫ আগস্টকে একটি ঐতিহাসিক প্রতীকে পরিণত করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ভালোবাসা ও প্রত্যাশা ছিল সেই ক্ষোভের বিপরীত আরেকটি প্রতীক। একদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ছিল জনগণের প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের প্রকাশ।

একইভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনও ছিল জনগণের আরেকটি প্রতীকী বার্তা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর এবং ৩১ ডিসেম্বর—এই তিনটি ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের ফ্যাসিবাদের প্রতি ক্ষোভ, তারেক রহমানের প্রতি আস্থা এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়ে তারেক রহমান সরকার পরিচালনা করছেন। সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহির দায় সম্পর্কে সচেতন। তাই নিয়মিত সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে এবং সাংবাদিকদের যথাযথ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত দলের পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের জানা। ইশতেহারের কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, সেটিও ধারাবাহিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৈরি হওয়া ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষোভের বাস্তবতা থেকে একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাকে সরকার জরুরি ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

“ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হয়। একইভাবে অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গকে প্রথমেই এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া যায়”—বলেন তথ্যমন্ত্রী।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা ও ক্ষত চিহ্নিত করে সেগুলো মেরামত ও কার্যকর করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরির কঠিন পর্ব সরকারকে অতিক্রম করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে সব কর্মসূচি একযোগে বাস্তবায়নের চেয়ে রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী করে তোলার কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার জনগণের সামনে তার কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেবে। নিয়মিতভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

সরকারের মেয়াদ যত এগিয়ে যাবে, প্রাথমিক পুনর্গঠনের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের পরিকল্পনা আরও মসৃণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের সামনে সরকারের জবাবদিহিতার ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর