Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো আপস নেই: আখতার হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০২৬ ২০:১৮

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক আপস বা শিথিলতার সুযোগ নেই। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার দল ও তরুণ সমাজ রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

আজ মঙ্গলবার ( ১৮ আগস্ট )সন্ধ্যায় ঢাকার এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি কীভাবে জনগণের ভোটাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। একটি জবাবদিহিমূলক এবং নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আমাদের মূল সংস্কারগুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো রকম লোকদেখানো বা সাময়িক সমঝোতা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

আখতার হোসেন তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে তরুণ প্রজন্মকে বাদ দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে গুণগত পরিবর্তন না আনলে বারবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এজন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক হয়ে মূল দাবিগুলোতে অটল থাকতে হবে।

সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তার এই বক্তব্যকে বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে একটি জোরালো বার্তা হিসেবে দেখছেন। বক্তারা মনে করছেন, আখতার হোসেনের এই মন্তব্য আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬ প্রস্তাবের মাধ্যমে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস পার হলেও পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস না করে বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে একই বিষয়ে নতুন করে আলোচনা করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগের অধ্যাদেশগুলো যেভাবে ছিল সেভাবেই সংসদে পাস করা অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং প্রয়োজনে পরবর্তীতে সংশোধন আনা যেত ।

গুমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গুম নিয়ে এক ভয়াবহ ট্রমা রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে ফিরে এসে বন্দিশালার তীব্র নির্যাতনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার এখনো কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি।

তিনি বলেন, নতুন খসড়া আইনে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্ত করার ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কমিশনকে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পাঠানো প্রতিবেদন দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাছাড়া কমিশনের চেয়ারপারসন নিয়োগ বিধিতে এমন কৌশল রাখা হয়েছে যেন সরকারের পছন্দমতো ব্যক্তি বসানোর সুযোগ থাকে।

অভিযোগ ওঠার পর একই বাহিনীর ওপর তদন্তের ভার দেওয়া হলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে বলে জানান আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত বাহিনীকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে প্রকৃত সত্য আড়াল হয়ে যাবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিতে গিয়ে মিথ্যা মামলার ভয়ে পিছু হটতে পারে, যা বিচার পাওয়ার পথকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করবে।

সরকার আরও ভালো আইন তৈরির অজুহাতে পুরোনো দায়মুক্তির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তাই আমলা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে খসড়াটি পুনঃপর্যালোচনা করতে হবে।

কেবল মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনই শেষ কথা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় আইনটি পাস হলে দেশ ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে আরও পিছিয়ে পড়বে।