চট্টগ্রাম: প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে খেলাধুলা, আনন্দ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে বিদ্যালয়ে খেলনা, শিক্ষা উপকরণ এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক, চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার একযোগে কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮০ দিনে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ‘জিরো আউট অব স্কুল চিলড্রেন’। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির বয়সসীমার কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি বিস্কুট বা এক প্যাকেট দুধ দেওয়ার বিষয়টিকে বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, এর পেছনে ততটাই বিস্তৃত পরিকল্পনা ও গবেষণা রয়েছে। পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাইলট কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তদারকি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা মাঠে যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করছেন, সেগুলো আমাদের জানান। কেন্দ্র থেকে বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য নয়; বাস্তবে আপনারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে এর সমাধান করা যায় এবং কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত আমরা জানতে চাই।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে এবং কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি—সব উদ্যোগ একই লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।