চিলির রাষ্ট্রপতি জোসে এনটনিও কাস্ট-এর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ করার তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ করার পর চিলির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময়ে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে পরিচয়পত্র পেশ করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দুদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চিলির পক্ষ থেকে উভয় দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতিকে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন যে, আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা বাংলাদেশ সফর করবেন এবং সে সময়ে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ আরও কতিপয় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতিকে আরও অবহিত করেন যে, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমসহ দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শক সভা আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজন করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। এ সভা উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি চূড়ান্তকরণের উপযুক্ত প্লাটফর্ম হিসাবে কাজ করবে।
রাষ্ট্রদূত অপর এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চিলির সিনেটর রাহো এডওয়ার্ডস সিলভার সঙ্গে মিলিত হন। সিনেটর রাষ্ট্রদূতকে আইপিইউতে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার কথা অবহিত করে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।
এছাড়া, রাষ্ট্রদূত মঙ্গলবার বিকেলে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা সঙ্গে অপর একটি দ্বিপাক্ষিক সভায় মিলিত হন। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ১ জুন ১৯৭২ তারিখে চিলির স্বীকৃতি দেওয়ার কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত চিলীয় কবি ও নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিলির দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষত একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, উপযুক্ত বাণিজ্য কাঠামো ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্যের পরিমাণ অদূর ভবিষ্যতে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ এবং চিলির কপার ও লিথিয়ামসহ পারস্পরিক পরিপূরক পণ্যসমূহের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক চেম্বারগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রতিনিধিদল বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে তার সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় একটি চিলীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।