ঢাকা: রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদন এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসনের দাবি জানিয়েছে ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ’। সংগঠনটির অভিযোগ, অর্গানোগ্রাম অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি সমন্বয় না হওয়ায় জনতা ব্যাংকের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা নিয়মিত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এ দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি। মানববন্ধনে জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদন, পদোন্নতি জট নিরসন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের নির্দেশনার পর সুপারনিউমেরারি পদোন্নতির সমন্বয় ও নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় জনতা ব্যাংকের নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ ডেট অনুযায়ী জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রেডে ৫ হাজার ৮৩২ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ ডেট অনুযায়ী এ সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ১৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত পদোন্নতি আটকে থাকায় প্রতিবছর পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বক্তারা জানায় সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা, ২০১৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৯২৬ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। পরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২১ নভেম্বর ২০২২ তারিখের নির্দেশনায় অর্গানোগ্রামের বাইরে সুপারনিউমেরারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করা হয়।
তবে এরপরও ২০২৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রেডে মোট ৭ হাজার ২১৫ জনকে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রেডে ৫৭৯ জন কর্মকর্তা এ ধরনের পদোন্নতি পেয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নজরে এলে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই সুপারনিউমেরারি পদোন্নতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে তারা জানায়।
এরপর ১৪ অক্টোবর ২০২৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার পর জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সুপারনিউমেরারি পদ সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ মার্চ ২০২৬ বিভিন্ন গ্রেডে ৮৮৮ জন সুপারনিউমেরারি কর্মকর্তাকে নিয়মিত করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এই নিয়মিতকরণ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ ডেট অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তাদের জন্য করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের দাবি, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুমোদন হয়ে গেলেও জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা চলছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ৭ জুলাই ২০২৫ তারিখের নির্দেশনার আলোকে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সংশোধিত অর্গানোগ্রামের প্রস্তাব পাঠায়। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুমোদিত হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। কিন্তু জনতা ব্যাংকের প্রস্তাব এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রস্তাবিত নতুন অর্গানোগ্রাম আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সেটি অনুমোদিত না হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদন হলে জনতা ব্যাংকের মোট জনবল ১৮ হাজার ৩৭ জন থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৮১৭ জন হবে। অর্থাৎ জনবল বাড়বে ৩ হাজার ৭৮০ জন। কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন হলে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আসবে, গ্রাহকসেবা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং খেলাপি ঋণ আদায় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা সম্ভব হবে।
পদোন্নতি না হলে আরও জটিলতার আশঙ্কা
সংগঠনটির ভাষ্য, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদন করা না হলে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ ডেট অনুযায়ী পদোন্নতির পথ আরও সংকুচিত হতে পারে। নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হলে সিনিয়র অফিসারসহ বিভিন্ন পদে নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর সুপারনিউমেরারি কর্মকর্তাদের নিয়মিতকরণ ও নিয়মিত পদোন্নতির কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ ডেট অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করা এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট দ্রুত নিরসন করা।
সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কর্মকর্তাদের এ দাবি শুধু পদোন্নতির দাবি নয়; এটি ব্যাংকের দক্ষতা, সুশাসন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।