ঢাকা: কোনো ব্যাংক হিসাব স্থগিত বা অবরুদ্ধ করার আদেশ পাওয়ার পর ওই হিসাবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য হিসাবের তথ্যও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-কে জানাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকসহ সব রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিএফআইইউ এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)–এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী কোনো হিসাব স্থগিতকরণ বা অবরুদ্ধকরণের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ওই হিসাবের স্থিতি ও ওই হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য হিসাবের তথ্য অবিলম্বে বিএফআইইউকে অবহিত করতে হবে।
বিশেষ করে সন্দেহজনক হিসাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্য হিসাবগুলোর তথ্যও দ্রুত জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একটি হিসাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অন্য হিসাবগুলোও নজরদারির আওতায় আনা সহজ হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯–এর বিধান অনুযায়ী বিএফআইইউ এ নির্দেশনা জারি করেছে।
বিএফআইইউ মূলত মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করে। সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা পাঠানোও সংস্থাটির অন্যতম দায়িত্ব।
নতুন নির্দেশনার ফলে কোনো হিসাব স্থগিত বা অবরুদ্ধ হওয়ার পর শুধু ওই নির্দিষ্ট হিসাবের লেনদেন নয়, তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য হিসাবগুলোর তথ্যও বিএফআইইউর কাছে দ্রুত পৌঁছাবে। এতে অর্থের গতিপথ শনাক্ত এবং সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হিসাবগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়বে।
বিএফআইইউ’র নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবের বিরুদ্ধে স্থগিত বা অবরুদ্ধকরণ আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এর আগে বিএফআইইউ বিভিন্ন সন্দেহজনক লেনদেন ও অর্থ পাচারের ঘটনায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবের তথ্য চেয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হিসাব স্থগিত বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হিসাবের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য হিসাবের তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট করা হলো।
সার্কুলারে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)–এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে নির্দেশনা জারির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সন্দেহজনক অর্থের লেনদেন ও সম্ভাব্য অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত হিসাবগুলো দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।