Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কিশোরগঞ্জে জমি দখলের আশায় মাকে হত্যা: পিবিআই

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২৯ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৪২

গ্রেফতার চাম্পা।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোছা. হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের পরিকল্পনায় হালিমাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পাকে (৪৮) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান। এর আগে গত ১৮ আগস্ট চাম্পা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

বিজ্ঞাপন

পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন হালিমা। পরদিন সকালে তার মেয়ে চাম্পা দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দেওয়া। দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে হালিমার মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। তার নাক-মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি পেঁচানো ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ দুই দিন তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তের সময় মামলার বাদী চাম্পার ওপর সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে চাম্পা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে তার মা হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বাড়ির জায়গা কিনেছিলেন বলে দাবি করতেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করলে দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা করেন। এ নিয়ে বিল্লালের সঙ্গে হালিমার বিরোধ চলছিল। এমনকি ঘটনার ১৫ দিন আগে পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করলে তাকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পিবিআইয়ের দাবি, এ ঘটনার প্রতিশোধ এবং প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাম্পা সহযোগীদের নিয়ে তার মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে সহযোগীরা বাড়িতে এলে চাম্পা তার মাকে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীরা হালিমাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে তার মাথা মাটিতে পুঁতে রাখে। পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চাম্পা প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের এমন নির্মমভাবে মাকে হত্যা করা অত্যন্ত জঘন্য ও গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর