ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কম দাম দেখিয়ে দুটি চালানে ২ কোটি কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৬৭টি ল্যাপটপ, ১০০টি ট্যাব ও আইপ্যাডসহ উদ্ধার বিপুল মালামাল আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (সিআইআইডি)। পাঁচ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ঘোষিত মূল্যের বিপরীতে কায়িক পরীক্ষা ও শুল্ক মূল্যায়নে চালান দুটির প্রকৃত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৬ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট চালান দুটির খালাস স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৩ আগস্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিশাল এই কর ফাঁকি ও মিথ্যা ঘোষণার প্রমাণ পান কাস্টমস কর্মকর্তারা।
কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, দুটি চালানের আমদানিকারক সরদার গ্লোবাল ট্রেড এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফাহিম ফাইভ স্টার লিমিটেড। চালান দুটির ঘোষিত মোট মূল্য ছিল মাত্র ৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। তবে কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর এর সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত মূল্যের তুলনায় মূল্যায়িত পণ্যের দাম প্রায় ৩০ দশমিক ৫ গুণ বেশি।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানায়, প্রথম চালানে ঘোষিত মূল্য ছিল ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। কায়িক পরীক্ষা শেষে এর মূল্যায়িত মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ৩ হাজার ৫২৭ মার্কিন ডলার বা ১ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৪ টাকা।
কায়িক পরীক্ষায় এ চালানে ৫৪৩টি এইচপি কোর আই ফাইভ ল্যাপটপ, ১৮৭টি এইচপি কোর আই থ্রি ল্যাপটপ এবং মিনি পিসি হিসেবে ঘোষণা করা আরও ১০টি এইচপি কোর আই ফাইভ ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ৫৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে প্রথম চালানে ৭৪০টি ল্যাপটপ এবং ৬০টি ট্যাব-আইপ্যাড পাওয়া যায়। ঘোষণার তুলনায় ৪৩টি অতিরিক্ত ল্যাপটপ পাওয়ার বিষয়টিও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনবিআর জানায়, দ্বিতীয় চালানে ঘোষিত মূল্য ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার। কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর এর মূল্য দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ২৫৯ মার্কিন ডলার বা ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৬ টাকা। এ চালানে ৪৬টি কোর আই থ্রি এবং ৩৮১টি কোর আই ফাইভ—মোট ৪২৭টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এছাড়া ৩৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড পাওয়া গেছে। ঘোষিত সংখ্যার তুলনায় এ চালানে ৩৯টি অতিরিক্ত ল্যাপটপ পাওয়ার তথ্য পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দার পরীক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ল্যাপটপ বাহ্যিক অবস্থা দেখে ব্যবহৃত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এসব পণ্যকে ‘could be used as per external appearance’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী এ ধরনের ব্যবহৃত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া Capacitor, Rubber Seal O-ring, Gasket Rubber ও Fittings হিসেবে ঘোষণা করা কিছু পণ্য কায়িক পরীক্ষায় গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এইচ এস কোড পরিবর্তনের বিষয়ও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।