Tuesday 25 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কাবিননামায় আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টে রিট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৪

-ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: বিয়ের সময় তথ্য গোপন ও প্রতারণা প্রতিরোধে কাবিননামায় বর-কনের পূর্ববর্তী ও বর্তমান বৈবাহিক অবস্থা, সন্তান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন।

রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ২০ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন

রিটে কাবিননামার বিদ্যমান ফরম সংশোধন করে বর ও কনের পূর্ববর্তী এবং বর্তমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বর্তমান সংসারের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর সংযোজন ও তা যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া এসব তথ্য সংযুক্ত না করে কাবিননামার বর্তমান ফরম বহাল রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার ফরম সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ (ঘ ফরম) বর্তমানে প্রয়োজনীয় অনেক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে না। এতে বর বা কনের পূর্ববর্তী বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ, চলমান পারিবারিক মামলা কিংবা বিদ্যমান সন্তানের তথ্য যাচাইয়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

আবেদনকারীর মতে, এ ধরনের ঘাটতির কারণে কেউ পূর্বের বিয়ে, বিদ্যমান বৈবাহিক সম্পর্ক, বিতর্কিত বা অনিবন্ধিত তালাক, সন্তান কিংবা আগের পরিবারের প্রতি ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত দায় গোপন করে নতুন বিয়ে করতে পারেন। এতে প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নতুন জীবনসঙ্গীর সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।