ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নভেম্বরের শেষের দিকে বা ডিসেম্বরে ভোট হতে পারে নির্বাচন। এজন্য আমরা বার্ষিক পরীক্ষা অ্যাডজাস্ট করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলবো। আমরা স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বিধিমালা ভেটিং হয়ে এসে গেছে। এখন শুরু গেজেট করা বাকি। আর নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে যেতে সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন মাঠে নামতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্যও সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।’
সিইসি বলেন, ‘যেসব এলাকায় নির্বাচন আগে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আমাদের প্রথমে বিবেচনায় নিতে হবে। আর হিলি রিজিয়ন বা দুর্গম অঞ্চল যেখানে আছে, সেখানে যদি নির্বাচন পড়ে, সেগুলো শুকনো মৌসুমে করার চেষ্টা থাকবে। আমরা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, তার চেয়ে ভালো বই খারাপ নয়- ওই স্ট্যান্ডার্ডে আমরা কাজ করতে চাই। প্রফেশনালি, ইন্ডিপেন্ডেন্টলি এবং নিউট্রালি যাতে কাজ করতে পারি এবং আমাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ যাতে ক্রেডিবল হয়, সেভাবেই কাজ করতে চাই।’
এ সময় সিইসি আরও বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা শুধু অপেক্ষা করছিলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা। যা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন আমরা নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নতুন রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তাঁর সঙ্গে কমিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের এ বৈঠকে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন। উনি বলেছেন, আমি এ দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন করার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আচরণবিধির যেগুলো ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম, সেগুলো ইতোমধ্যে এসেছে। এখন শুধু ম্যানুয়াল তৈরি করতে হবে। আমাদের তরফ থেকে আর কোনো প্রস্তুতির ঘাটতি নেই।’
রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘না, উনি কোনো নির্দেশনামূলক কিছু বলেন নাই। উনি জাস্ট আমাদের প্রস্তুতি জানতে চেয়েছেন, কবে কোনটা করতে চান, এগুলো জানতে চেয়েছেন। বরং উনি বলেছেন, আপনারা যাতে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি কাজ করতে পারেন, প্রফেশনালি কাজ করতে পারেন, নিউট্রালি কাজ করতে পারেন, তার জন্য আমার যাবতীয় সহযোগিতা থাকবে।’
সেনাবাহিনী মোতায়েনের আইনি বিষয়েও সিইসি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞার মধ্যে আমরা জাতীয় নির্বাচন ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছি। স্থানীয় নির্বাচনের জন্যও প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে গেছে। আইন সংশোধন না হলেও ইন এইড অব সিভিল পাওয়ার, সিভিল অথরিটি, যেকোনো সময় ডেপ্লয় করা সম্ভব।’
আচরণবিধির ভেটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছু আছে, এগুলো ম্যাক্সিমাম ক্ল্যারিক্যাল কারেকশন। আর আইন সংশোধনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন আমরা বানাব না। স্থানীয় সরকারের আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন সংশোধন হলে ভালো, না হলে বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন করতে হবে।’
এনআইডি জালিয়াতি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘জালিয়াতি তো করেই। এটা শুধু নির্বাচন কমিশন দেখলে হবে না, সারা দেশের সব ডিপার্টমেন্টের বিষয় আছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি এগুলো শেষ করে দেওয়ার জন্য।’
মৃত ব্যক্তির এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার ঘটনাটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি পেপারে দেখেছি। এটা আমরা একটু তদন্ত করে দেখতেছি কেন হলো। আমি তো অস্বীকার করছি না এরকম আছে। জালিয়াতি তো করেই। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। আমি এখানে ভোটার সুপ্রিমেসি প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’