Saturday 29 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর: তারেক রহমান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৫:০৯

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধসহ জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ দিয়ে আমরা চেষ্টা করব—১৯৭১ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা যে আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা হারিয়ে গেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন, সরকার নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি কথাটা একটু ঘুরিয়ে বলতে চাই। এই মানুষগুলো বা এই পরিবারগুলোর সহযোগিতা ও সমর্থন আছে বলেই সরকার পূর্ণ উদ্যোগে সেই শহীদ ও আত্মত্যাগী মানুষগুলোর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছে। আপনারাই হচ্ছেন আমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং শক্তির উৎস।’

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যতদিন জনগণ তাদের নিয়োজিত রাখবে, ততদিন এসব পরিবারের সমর্থন ও প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এমনকি অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও পরিবারেরও অবদান ও আত্মত্যাগ রয়েছে। সরকারের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব মানুষ ও পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি হয়তো কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরও এতটুকু বলতে চাই, আমাদের অবস্থান থেকে আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ থাকব।’

শহীদ ও আত্মত্যাগকারী গণতন্ত্রকামীদের প্রত্যাশা পূরণে পরিবারগুলোর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই, আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন, আমাদের উৎসাহ দেবেন। যাতে আমরা শহীদসহ সকল আত্মত্যাগকারী গণতন্ত্রকামী যোদ্ধাদের দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি সরকারের জন্য কিছুটা কষ্টেরও। কারণ, অনুষ্ঠানে এমন অনেক মানুষকে স্মরণ করা হচ্ছে, যারা হয়তো আজ এখানে থাকার কথা ছিল, কিন্তু তারা নেই।

তিনি বলেন, ‘এই যে মানুষগুলো আজকে আমাদের মাঝে নেই, তাদের অনুপস্থিতির যে কারণ, সেই কারণের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ একটি ফ্যাসিস্ট অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিখোঁজ বা অনুপস্থিত রয়েছেন, তারা কোথায় কী অবস্থায় আছেন, একমাত্র আল্লাহই তা জানেন। তাদের জন্য সবার দুহাত তুলে দোয়া করা উচিত, যাতে আল্লাহ তাদের যে অবস্থায় রেখেছেন, সেই অবস্থায় সর্বোচ্চ ভালো রাখেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে সেই মানুষগুলোর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই আপনাদের সামনে দেখে আমিও কিছুটা ইমোশনাল বোধ করছি।’

তিনি বলেন, দেশের জন্য বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে অনেক মানুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কেউ জীবন দিয়েছেন, কেউ নিখোঁজ হয়েছেন, আবার কেউ বিভিন্নভাবে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের সেই ত্যাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

৭৪ জন পেলেন নিয়োগপত্র
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১০ জনের কাছে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ সময় তিনি নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আত্মত্যাগকারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তাদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর