Saturday 29 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটে ১৫দিন ধরে ফেরি বন্ধ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৫:২১

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নাব্যতা সংকট দেখিয়ে ১৫দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বিআইডব্লিউটিএ-এর গাফিলতি এবং চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে প্রায়ই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ফেরির জন্য অপেক্ষা করা পণ্যবাহী পরিবহণের চালক ও শ্রমিকরা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নৌ-রুটে বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্যোগে এ নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর। উদ্বোধনের পর দেড় মাসের অধিক সময় নিয়মিত দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহণ পারাপার করে আসছে। প্রতি ট্রিপে ফেরি কুঞ্জলতা ৮/৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২ থেকে ১৩টি ও কদম ৮ থেকে ৯টি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করতো। এর মধ্যে বেগম সুফিয়া কামালও ফেরি কুঞ্জলতা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কদম ফেরি থাকলেও ব্রহ্মপুত্র নদে চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরি। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী পরিবহণের চালক ও শ্রমিকরা। ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৯ আগষ্ট চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে ন্যাবতার কারন দেখিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলো ৫৪১ দিন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৯ আগষ্ট) সকালে নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে অবস্থানরত ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ১৫টির মতো ট্রাক ফিরে গেছে। আমিও এসে দেখি ফেরি বন্ধ তাই ফিরে যাচ্ছি।

রংপুর থেকে আসা ট্রাক চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ৭ দিন ধরে ঘাটে আছি। শুনছি ফেরি চলবে কিন্তু আর ফেরি চলে না। আজ যদি ফেরি না চলে তাহলে অনেক পথ ঘুরে ঢাকা যেতে হবে। এতে আমাদের সময় ও ব্যয় বেশি হবে।

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট ও দুইশো বিঘায় পানি কম থাকায় ১৪ আগষ্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। রৌমারী ঘাট ও দুই বিঘা এলাকায় ড্রেজিংযের কাজ চলছে। আমি ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছেন আরো দুইটি ড্রেজিং মেশিন পাঠাবেন কিন্তু এখন পর্যন্ত পাঠায়নি। তিন চার দিন আগে রৌমারীতে গিয়েছিলাম ঘাট এলাকার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি যদি এ ভাবে বন্ধ থাকে তাহলে মানুষের দুর্ভোগ আরেও বাড়বে।

ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সমির চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় খননের কাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু বিঘাতে খনন চলছে। আমি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ কে বিষয়টি জানিয়েছি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা ও জনদুর্ভোগ নিরসন করার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। আমি আশা করছি তারা বিষয়টি দেখবেন।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর