Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে ৪ হত্যা: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস মন্ত্রীর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৩০

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু।

রংপুর: রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অল্প সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় নিহত শিক্ষকের মাছুয়াপাড়ার বাসা পরিদর্শন শেষে তিনি এ আশ্বাস দেন।

এর আগে, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাসকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় ও বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে, পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনা রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক। বর্তমান সরকার এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ইতোমধ্যে রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং এর বিচারকাজও শেষ হয়েছে। মাদকাসক্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই ওই বাড়িতে গিয়ে গণপতি চক্রবর্তীকে বিরক্ত করতেন। তাদের বাধা দিতে গিয়েই তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, ‘গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই এ ঘটনায় আর সন্দেহের কিছু নেই।’ তবে সুশীল সমাজ পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে বিচারিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। মন্ত্রী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এরই মধ্যে মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিবি পুলিশের নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীকে (ওসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর নিহতের ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে রোববার রাতে আদালতে দুই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রতিবেশী দেবু বাড়ির ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর ছাদে ওঠে ইয়াবা সেবন করেন। ভোররাতে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেললে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তারা গামছা দিয়ে প্রথমে গণপতিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। চিৎকার শুনে ছাদে ওঠা স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘুম থেকে ওঠা ছেলে আয়ুশ সিদ্ধার্থকে চিনতে পেরে ‘সিদ্ধার্থ দাদা’ বললে তাকেও হত্যা করে তারা। পরে ডাকাতির নকল তৈরি করে বাড়ি তছনছ করে এবং আঙুলের ছাপ মুছতে দুটি মোবাইল ডিটারজেন্ট পানিতে ডুবিয়ে রাখে।

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার এই ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে মূল দুই আসামি গ্রেফতার করেছে। তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর এবং স্বীকারোক্তির প্রেক্ষাপটে অভিযোগপত্র দিতে সময় বেশি লাগবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সুশীল সমাজের তদন্ত দাবি এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রী ও পুলিশের দাবি, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর