Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসীকে হত্যা: মামলায় অগ্রগতি না থাকায় মানববন্ধন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪৪

​লক্ষ্মীপুর: ​রাজধানীর মগবাজার এলাকায় খাবারে বিষ মিশিয়ে লক্ষ্মীপুরের সৌদি প্রবাসী মনির হোসেন (৪৫), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বিচারের দাবিতে এবং মামলার অগ্রগতি না থাকার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের আথাকরা বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

​এদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিএমপি ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার নিহত মনিরের গ্রামের বাড়ি রামগঞ্জের দেহলা গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

​মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মজুমদার, সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চু, নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন, চাচাতো ভাই জাকির হোসেন এবং দুই ছেলে রাহাতুল ইসলাম বাপ্পী ও রায়হান ইসলাম নিহান।

​মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত মনির হোসেন রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের ছেরাজুল হক বেপারী বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে। ২০২৫ সালের ২৮ জুন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈম ইসলামকে (১৮) চিকিৎসার জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (৩৬) সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে যান। ডাক্তারের সিরিয়াল না পেয়ে ওই রাতে তারা মগবাজারের ‘সুইটস লিভ’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করেন। সেখানে খাবার খাওয়ার পর তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে স্বপ্না আক্তার, এর কিছুক্ষণ পর ছেলে নাঈম এবং দুপুরে মনির হোসেন মারা যান। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন চিকিৎসকরা। পরে ১ জুলাই নিহত মনিরের ভাই প্রবাসী নুরুল আমিন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

​পরবর্তী সময়ে এ মামলায় অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। রফিকের বিরুদ্ধে নিহত মনিরের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

​নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন বলেন, ‘রফিক পরিকল্পিতভাবে আমার ভাই, ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা করেছে। সে আমার ভাইয়ের সব অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। জামিনে বের হয়ে সে এখন আমাদের হুমকি দিচ্ছে।’

​মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ডিএমপি ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার জানান, মনির ও তার স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার ঘটনায় রফিক নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যিনি পরে জামিনে মুক্তি পান। তদন্তের স্বার্থে তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যেই মনিরের গ্রামের বাড়িতে আসা। তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পিবিআই গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সারাবাংলা/এসআর/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর