Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ই-টেন্ডার সহজীকরণ / ‘ইন্টেরিম ৭ দিনে পারলে সরকার ৬ মাসেও কেন পারে না’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩০ আগস্ট ২০২৬ ২১:০০ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ২১:১৩

জাতীয় সংসদে ই-টেন্ডার সহজ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের তৈরি করা সিন্ডিকেট ভেঙে সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আইন প্রক্রিয়াধীন বলে সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

রোববার ( ৩০ আগস্ট ) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব ও সম্পূরক প্রশ্নে এসব আলোচনা হয়। বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন দেশের বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত সহজীকরণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিগত সরকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বর্তমান সরকারের ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এই প্রক্রিয়া সহজীকরণে কেন বিলম্ব হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশের কোটি কোটি মানুষ ও শিক্ষিত বেকার সমাজ এখন এই আইন সহজীকরণের দিকে তাকিয়ে আছে।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনস্বার্থে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরসহ বিভিন্ন ক্রয়কারী কার্যালয়ের মাধ্যমে উন্নয়নকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। কেনাকাটায় সীমিত দরপত্র ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটিকে আরও আধুনিক ও সহজ করার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে এবং যথাসময়ে তা অনুমোদন করা হবে।

সংসদ চলাকালে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পাদন করতে আর কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পরবর্তীকালে বিষয়টির আইনি ব্যাখ্যা ও সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী প্রচলিত সংবিধান ও আইনের মধ্য দিয়েই সব কাজ পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, নিয়ম ও আইন অনুসরণ করে ভালো কাজ সম্পাদন করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক মতের মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে রাখতে বিশেষ অবকাঠামো বা সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছিল। এই সমস্ত বাধা ও সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও রুলসকে যুগোপযোগী করতে গঠিত মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ সাব-কমিটি ইতোমধ্যে তাদের খসড়া কাজ চূড়ান্ত করেছে।

তিনি জানান, খুব অতি দ্রুতই এই আইন সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় সব সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের পথ সুগম করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর