Monday 31 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

উপজেলা পর্যায়ে বাড়ছে চিকিৎসা সুবিধা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৮:০২

মানিকগঞ্জ: বিগত ১৭ বছরে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর কোনো কাজ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, আগের সরকারের সময়ে হাসপাতালে শয্যা বাড়ানো হয়নি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি, এমনকি পর্যাপ্ত জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতি ১১ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির কারণেও স্বাস্থ্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য খাতে আগের সরকারের সময়ের কেনাকাটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফরিদপুর ও বরিশালে দুটি এমআরআই মেশিন পড়ে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এসব মেশিন মানুষের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এক একটি মেশিন ১৮ কোটি টাকা করে কিনেছে। আর এই মেশিনগুলো স্থাপন করতে বাঙ্কার লাগে, সেগুলোও করেনি তারা। মেশিনগুলোর বর্তমানে দাম ১১ থেকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা। তারা এই মেশিন থেকে সাত কোটি টাকা করে চুরি করেছে।’

মেশিনগুলো যেভাবে আনা হয়েছিল, এখনো সেভাবেই পড়ে আছে বলে দাবি করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনবল না থাকলেও আগের সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এসব মেশিন ব্যবহার না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভাঙারির কাছে বিক্রি করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবাকে উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যেতে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা তিন বছরের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করব। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব হাসপাতালে নারীদের জন্য ২০টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা থাকবে। পাশাপাশি কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে চলতি বছরের মধ্যেই ডায়ালাইসিস মেশিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি করে এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে। এ জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। যাতে মানুষকে কষ্ট করে ডায়ালাইসিসের জন্য ঢাকায় যেতে না হয়, সেজন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।

এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। শুধু উপজেলা নয়, ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এবার কাজ ধরব। তিন বছরের মধ্যে একটি করে হেলথ সেন্টার করার জন্য কাজ করব। এসব হেলথ সেন্টারে একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফারি কর্মী রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে বলেও দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন একটি অবস্থায় আমরা এই দায়িত্ব নিয়েছি। এই বিগত ছয় মাসে আমরা একটা জিনিস তৈরি করতে পেরেছি, সেটা হচ্ছে সময়মতো ডাক্তার-নার্সরা হাসপাতালে আসছেন।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রোগীদের খাবারের মান উন্নত করতে ভ্যাট ও ট্যাক্স ছাড়া প্রতিদিন আড়াইশ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিশেষ দিনগুলোতে ভালো খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার কুইক রেন্টালের নামে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার কুইক রেন্টালের নামে লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, তারা দেশে সংকট তৈরির জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে ওঠানামা করাচ্ছে। এ সময় দেশের গ্যাস উৎপাদন নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তার দাবি, অতীতের সরকার নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার গ্যাসকূপ খননের কাজ শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য খাতসহ সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের প্রত্যেকটি স্তর থেকে আমাদের দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। কারণ আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সেই ভোটের সুযোগ আপনারা সবাই করে দিয়েছেন, সাংবাদিকরা করে দিয়েছেন। আমাদের অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাদক, ধর্ষণ এবং অনলাইন-অফলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, এসব অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। মাদকের দিকে মানুষের ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খান রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এ ছাড়া সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর