ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় চরমভাবে গণতন্ত্রকামী এবং দেশের ইতিহাস প্রমাণ করে এ দেশের মানুষ কখনো কোনো স্বৈরাচারকে সমর্থন করেনি।
সোমবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মানুষ নিজেদের মৌলিক অধিকার আদায় ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য হাসিমুখে আত্মোৎসর্গ করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেনি। ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হলেও শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র অধরাই থেকে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে এ দেশে প্রকৃত অর্থে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহিদ জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিগত কয়েক দশকের নির্বাচনি ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো মূলত প্রহসনের নির্বাচনে রূপ নিয়েছিল। এসব ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পূর্ণরূপে হরণ করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অন্যায়ের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের শাসনকালের ইতিহাসে অন্যতম মুক্ত, অবাধ, প্রতিযোগিতামূলক ও নিরপেক্ষ এক নির্বাচন। বর্তমানে জনগণের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের সার্বিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
প্রতিনিধিদলের প্রধান ও আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের বহুদিনের পুঞ্জীভূত আকাঙ্ক্ষার সঠিক বাস্তবায়ন ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সঠিক সংশোধনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র অনুশীলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে একটি শক্তিশালী ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংসদ পরিচালনা করা সম্ভব।
এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জাতিসংঘের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা ও তাদের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে দেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিসহ বহুমুখী ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।