Sunday 06 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শুধু বক্তৃতা নয়, কাজ দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে: ধর্মমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৫৯

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

ঢাকা: শুধু বক্তৃতা বা বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত ‘সরকারি মাধ্যমের হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু হাজীদের নিবন্ধন কিংবা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজীদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই হজ ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য নিহিত। বিগত হজের ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময়ে সম্পন্ন হয়েছে- এমন দাবি সঠিক নয়। হাজীদের নিবন্ধন এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন রুটিন কাজ। হাজীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ব্যবস্থাপনার মূল কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, রিয়াদে সৌদি হজমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সময় তিনি বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজীদের জন্য এক লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং এবং নারী হাজীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হাজীর লাগেজ হারায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি হাজীদের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। হাজীদের সেবা করাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ বলেও উল্লেখ করেন।

শেষ মুহূর্তে দুই হাজীকে সৌদি পাঠানোর উদ্যোগ

হজে যাওয়ার ফ্লাইটের শেষ দিনে হজ ক্যাম্প প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পরের একটি ঘটনা তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা তাকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন নারী ও একজন পুরুষ হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে না পেরে কান্নাকাটি করছেন।

পরে তিনি নিজে টিকিটের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই দুই হাজীকে দ্রুত বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এনএসআই কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ওই দুই হাজীকে নিরাপদে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।

হজ গাইডদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাইডদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য তাদের পুরস্কৃত করার সুযোগ বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার হজ গাইডদের কঠোর পরিশ্রম ও হাজীদের সেবায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, হজ গাইডদের সম্মাননা তাদের সেবার তুলনায় খুবই সামান্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। আগামী হজ আরও সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং গুরুতর অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের হজে পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। গত বছরের অব্যবহৃত অর্থ হাজীদের ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ওয়াক্‌ফ প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ, হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাজীদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮ জন হজ গাইডকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর