Friday 17 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা: চলছে স্টল নির্মাণের কাজ

আশিকুর রহমান হান্নান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:২৯ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৩০

ছবি: সারাবাংলা

নারায়ণগ‌ঞ্জ: আগামী জানুয়ারিতে শুরু হতে যাচ্ছে ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গত বছরের ন্যায় এবারও জেলার রূপগ‌ঞ্জ উপজেলার পূর্বাচ‌ল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরে স্থায়ী প্যাভিলিয়ন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে হবে এই মেলা। প্রথম দিন থেকেই মেলা জমিয়ে তুলতে চান ব্যবসায়ীরা। তাই আগেই স্টল নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা। আর স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা, যেন দম ফেলার সুযোগ নেই। আগামী ১ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে মেলার আসর বসেছে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে। তবে রাজধানীতে চাপ কমাতে গত বছর ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়। এটির মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়ন।

বিজ্ঞাপন
চলছে স্টল তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

চলছে স্টল তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেলা উদ্বোধনকে সামনে রেখে সকল প্রস্তুতির কাজ চলছে তোড়জোড়। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে স্টল নির্মাণের কাজ। আগে বরাদ্ধ পাওয়ায় স্টল নির্মাণের কাজ আগেই শেষ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। এক্সিবিশন সেন্টার ‘এ’ ও ‘বি’র ভেতরে-বাইরের আঙিনায় শতাধিক স্টল নির্মাণের কাজ চলছে। কাঠ, বাঁশ ও হার্ডবোর্ড দিয়ে বানানো হচ্ছে অস্থায়ী স্টল। স্টিল, ইট ও কংক্রিট দিয়ে বহুতল প্যাভিলিয়নের গাঁথুনির কাজও শেষ পর্যায়ে। দিন-রাত কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। ২৫-৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই বুঝিয়ে দিতে হবে স্টল। এবার পরিবেশও গতবারের চেয়ে ভালো। কুড়িল থেকে পূর্বাচলে যাতায়াতের রাস্তার কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়া এবং স্টল বাড়ানোয় জমজমাট বাণিজ্যমেলার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও দেখা যায়, মেলার প্রধান ফটক ও প্রবেশ পথে তিনটি মেগাপ্রকল্পের কাঠামো, বঙ্গবন্ধু কর্নার তৈরির কাজ চলছে। বেশির ভাগ স্টলের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। স্টিল নির্মাণ শেষ হলে স্টলে বোর্ড লাগানো ও রং দেওয়ার কাজ শুরু হবে। অনেক স্টলের কাঠামো দাঁড় করানো শেষ হয়েছে। এসব স্টলের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরও ৭/৮ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলছে স্টল তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

চলছে স্টল তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

সেভয় আইসক্রিমের সেট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান শাহা আলী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘১৭ জন শ্রমিক পর্যায়ক্রমে দিন-রাত কাজ করছে। আগামী ৬/৭ দিনের মধ্যে কাঠের ডিজাইন ও রংয়ের কাজ শেষ হবে।’

বেঙ্গল পলিমার প্যাভিলিয়নের সাইট ইঞ্জি‌নিয়ার মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের দুইতলা বিশিষ্ট বড় প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে।’

ইরানি ফাইবারের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতবারও মেলায় ছিলাম। প্রথমে ভালো না হলেও শেষের দিকে মেলা জমেছে। এবার যেহেতু স্টল বেশি, আবার রাস্তাও ভালো হয়েছে। মেলা এবার প্রথম থেকেই জমে উঠবে।’

চলছে প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

চলছে প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের স্টলে কথা হয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রফিক হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছে। পুরো কাঠামোটা স্টিলের তৈরি। ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছে, রঙের কাজ শুরু হয়নি।’

এক্সিবিশন সেন্টার ‘বি’তে লেডিস ফ্যাশন স্টল তৈরির কাজ ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক সুজন আহসান। তিনি বলেন, ‘এবার মেলার পরিবেশ ভালো। মানুষ সহজেই আসতে পারবে। এবার ভালো ব্যবসা হবে বলে ধারণা করছি। এবার স্টল ফি বেশি, আবার মেকিং খরচও বেশি। তবু চেষ্টা করছি যত কম টাকা খরচ করে ভালো স্টল করা যায়।’

মেলায় স্টল নির্মাণ করতে আসা আনন্দ মেটাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের ম্যানেজার চৈতন্য দাস বলেন, ‘মিরপুর থেকে মেলায় কাজ করতে এসেছি। ছোট বড় মিলিয়ে আমরা ১৫টি স্টলের কাজ পেয়েছি। গত ২৮ নভেম্বর থেকে ১৬ জন শ্রমিক দিন-রাত কাজ করছে। মেসার্স মদিনা এন্টারপ্রাইজ, রংপুর ক্রাফট, ইরানি থাই এম্পোরিয়ামের প্যাভিলিয়ন নির্মাণ শেষের দিকে। আগামী ৬/৭ দিনের মধ্যে পুরো স্টলের কাজ সমাপ্ত হবে।’

কাঠ ও রংমিস্ত্রি লোকমান, মিলন, শামিম ও নাজমুল জানান, সকাল ৮টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত কাজ করছেন তারা। এরপরও কাজ শেষ করতে পারছেন না। রং ও সাজসজ্জা সব মিলিয়ে ৬ থেকে ৮ দিনের মধ্যে স্টল প্রস্তুত হবে।

চলছে স্টল তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

চলছে স্টল তৈরির কাজ, ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার গেটের ইজারাদার মের্সাস আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘এ বছর আগে থেকেই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই স্টল নির্মাণের কাজ আগেই শেষ হবে। ৩০০ ফুট সড়ক গত বছরের থেকে অনেক ভাল। এবার মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে মনে করি।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) স‌চিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী ব‌লেন, ‘রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ৪ নম্বর সেক্টরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৭তম আসর আগামী ১ জানয়ারি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বছর মেলায় স্টল সংখ্যা বেড়েছে, আশা করি মেলা জমজমাট হবে। পূর্বাচলের বাণিজ্য মেলা সফল করতে ইপিবি সব চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেলা সফল করতে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মেলায় এবারও সাধারণ, প্রিমিয়াম, সংরক্ষিত, ফুড স্টল ও রেস্তোরাঁসহ ১৩ ক্যাটাগরিতে স্টল থাকবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে থাকবে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। কুড়িল বিশ্বরোড তিনশ’ ফুট মূল সড়কটির কাজও প্রায় সমাপ্তর পথে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের মেলায় আসতে যাতে কোনো কষ্ট পেতে না হয়, সেজন্য সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হচ্ছে। দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে চালু করা হবে বিআরটিসির স্পেশাল বাস সার্ভিস।’

ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী আরও ব‌লেন, ‘এবারের মেলায় ১২টি দেশের তিন শতাধিকের বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। স্টলগুলোর নির্মাণ কাজ ৩০ ডিসেম্বরের আগে শেষ হবে। গতবার শিশুপার্ক ছিল না। এবার মিনি শিশুপার্ক থাকছে। ফুডকোর্ট নিচে চলে গেছে। পরিবেশও ভালো হয়েছে। পরিসর বড় হয়েছে। গতবার ছিল ২২৫টি স্টল। এবার স্টল হবে ৩৩১টি। গতবারের তুলনায় এবারের মেলাটা আরও বেশি জমজমাট হবে।’

সারাবাংলা/এনএস