Thursday 23 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘পোশাক শ্রমিকদের মজুরি সাড়ে ১৭ হাজার টাকা হওয়া উচিত’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:৩৫

ঢাকা: নির্বাচনের আগেই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো ন্যূনতম মজুরি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে আসছে। যদিও এর আগে, ১২ হাজার টাকার বেশি মজুরি দেওয়া সম্ভব নয় বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছিল একাধিক পোশাক মালিক। তবে পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি।

রোববার (৮ অক্টোবর) সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের যৌথ আয়োজনে ‘গার্মেন্টস খাতে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ: পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক এই মজুরি প্রস্তাব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বিজ্ঞাপন

সিপিডি জানায়, ২০১৮ সালে সর্বশেষ পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। সে সময় এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার টাকা। তবে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে বেতন ৯ হাজার ৫৬৮ টাকা বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই মূহূর্তে পোশাক খাতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের একটা প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে গত এপ্রিলে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত বিষয় আলাপ-আলোচনা চলছে। সেইসঙ্গে দেখছি শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের প্রস্তাবনাগুলো হাজির করছেন।’

তিনি বলেন, ‘মালিক পক্ষের দিক থেকে সরাসরি কোনো প্রস্তাবনা না থাকলেও বিভিন্নভাবে তারা তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। এগুলোর আলোকে আগামীতে নতুন মজুরি পুনর্নির্ধারিত হবে; যেটা ২০১৮ সালে সর্বশেষ হয়েছিল। বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও গার্মেন্টস খাতের মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগতভাবে এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জায়গা থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ, সামনে যেহেতু নির্বাচন।’

সিপিডির গবেষণা পরিচালক বলেন, ‘২৭ শতাংশ কারখানা মালিক মনে করেন, ১২ হাজারে টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন তারা দিতে পারেন। শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা চেয়েছেন। আবার শ্রমিক সংগঠনগুলো ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের প্রস্তাব করেছেন। পোশাক খাতে জড়িত শ্রমিকের পরিবার ছোট হয়ে আসছে। আমরা গ্রেড সেভেনের জন্য ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করছি ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা। আমরা মনে করি, গ্রেড সেভেনে একজন পোশাক শ্রমিকের এতটুকু পাওয়া প্রয়োজন।’

এর আগে, পোশাক খাতে নূন্যতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তামিম আহমেদ। ক্রিশ্চিয়ান এইডের অন্তর্বর্তী কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিন ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।

সারাবাংলা/ইএইচটি/পিটিএম