গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকালে বৈরুত এবং পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা শুরু করে বলে জানিয়েছে লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।
ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার (৭ অক্টোবর) গাজায় চলমান ইসরাইলি বর্বরতার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ দিন উত্তর গাজায় হামাসের হামলায় এক ইসরাইলি সার্জেন্ট নোয়াম ইসরাইল আবদো নিহত হয়েছেন। বৈরুতে হামলায় হিজবুল্লাহর সদর দফতরের কমান্ডার সুহেল হুসেইনিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল।
ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকীতে অবরুদ্ধ ছিটমহলের উত্তর, দক্ষিণ এবং কেন্দ্রীয় অংশে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বন্দর শহর হাইফা এবং কেন্দ্রীয় শহর তেল আবিবের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি গোয়েন্দা সদর দফতরে আঘাত করেছে। সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের জন্য নতুন উচ্ছেদের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
স্বাস্থ্য সূত্র জানায়, মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরের আল-ফুরকান মসজিদের কাছে একটি তাঁবুতে মানববিহীন বিমানের (ইউএভি) হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ক্যাম্পের অন্যান্য স্থানে দুটি পৃথক বিমান হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছে। খান ইউনিসের পূর্ব ও পশ্চিমে পৃথক হামলায় আরও ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
রাফাহ শহরে, মিরাজ এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধ বিমানের হামলায় আট ফিলিস্তিনি নিহত হয় এবং খিরবেত আল-আদেস এলাকায় হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরাইল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি খান ইউনিসে চলে যান। এক বছর ধরে চালানো এই সংঘাতে বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া অনেকেই নিখোঁজ হয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলেও ধারণা করা হয়।