প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামফলক ও ম্যুরাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেই নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পরিবর্তিত নকশাতেও খালেদা জিয়ার স্কেচ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার ম্যুরাল বা স্কেচ নয়, নামফলকে কেবল তার নাম থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০ অক্টোবর সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১১ ফুট দীর্ঘ ম্যুরাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জবি প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদার জিয়ার অবদান আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমরা চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই তার কোনো স্মৃতি থাকুক। ফ্যাসিবাদ আমলে তার নামের যে নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে সেটা সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই হতে পারে তার স্মৃতি রক্ষার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই আগের মতো ম্যুরাল নির্মাণ করে ব্যক্তিপূজার রীতি চালু করতে চাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ম্যুরালের পরিবর্তে স্কেচ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জবি প্রশাসন। তবে শিক্ষার্থীরা সেটিরও বিপক্ষে। তারা বলেন, আমরা শুধু নামফলক চাই, সেখানে কোনো ছবি-মূর্তি বা স্কেচ থাকবে না। প্রয়োজনে মূল ফটক সংস্কার করে সেখানে বড় করে নামফলক থাকতে পারে। শুধু নামটা থাকতে পারে সেখানে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, ফ্যাসিবাদের পতনের পর নতুন যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবেন, তিনি গণআন্দোলনের স্পিরিটকে ধারণ করবেন। কিন্তু বর্তমান উপাচার্যের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে আমরা আশাহত। আমরা দেখতে পাচ্ছি, তিনি আগের ফ্যাসিবাদের আমলের উপাচার্যদের পথেই হাঁটছেন। যে আন্দোলনের উদ্দেশ্যই ছিল লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি দূর করা, উপাচার্যসহ পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই লেজুড়বৃত্তিকতার দিকেই হাঁটছে।
জবি প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজকের মধ্যে যদি এই ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে কঠোর অবস্থানে যাবে শিক্ষার্থীরা। বুধবার এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে গণসই নেওয়া হবে। রোববার গণসইসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নামে অভিযোগ শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হবে।
জবি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, আমরা শুধু নামফলক চাই। সেখানে কোনো ছবি, মূর্তি বা স্কেচ থাকবে না। প্রয়োজনে মূল ফটক সংস্কার করে সেখানে বড় করে নামফলক করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ছোট স্কেচ হবে।
শিক্ষার্থীদের উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগের হুঁশিয়ারির বিষয়ে জবি প্রক্টর বলেন, আমরা তাদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়েছি। তাদেরও এ বিষয়ে একটু যৌক্তিক হওয়া দরকার।