ঢাকা: গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রধান শিক্ষকরা ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছেন। তারা জানান, প্রধান শিক্ষক পদে গেজেট পাওয়া তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান প্রধান শিক্ষক ঐক্যজোট।
আগামী শনিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর। এ সময় সদস্যসচিব খায়রুল ইসলামসহ জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত সরকার প্রধান ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ঐতিহাসিক শিক্ষক সমাবেশের মাধ্যমে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্মরত এক লাখ ৮ হাজার ৭৭২ শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করেন।
জাতীয়করণ করা প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের জন্য একজন প্রধান শিক্ষক ও চারজন সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণা অনুসারে, ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের জন্য ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রথম ধাপের ২২ হাজার ৯৮১ জন শিক্ষকদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে গেজেটে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। কিন্তু প্রথম ধাপের বাকি শিক্ষকসহ দ্বিতীয় ধাপের ২২৫২টি এবং ৩য় ধাপের ৯৬০টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের গেজেট থেকে পদটি স্থগিত রেখে সহকারী শিক্ষক হিসাবে গেজেট প্রকাশ করেন। এতে বাদপড়া প্রধান শিক্ষকরা বৈষম্যর শিকার হন। এই বৈষম্য দূর করতে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন জোটের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তারা জাতীয়করণের আগে তৎকালীন সময় জারিকৃত গেজেট ও পরিপত্রের নগর ক্ষমতাবলে এসএমসিকর্তৃক প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে যথাযথ দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৩ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত গেজেট অনুযায়ী জাতীয়করণকৃত প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের জন্য একজন প্রধান শিক্ষক ও চারজন সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করার কথা থাকলেও তারা বৈষম্যের শিকার। গেজেটে অন্তর্ভুক্তিকরণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাদের গেজেটভুক্ত করার জোর দাবি জানান তারা।