কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে মাছ ধরতে যাওয়া বাংলাদেশি ফিশিং ট্রলারে গুলি চালিয়েছে মিয়ানমারের নৌ বাহিনী। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক জেলে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এ ঘটনায় ৬০ জন জেলেসহ পাঁচটি ফিশিং ট্রলার অপহরণ করে মিয়ানমারের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পশ্চিমের মৌলভীর শিল মোহনায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে। এ দিন অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া ট্রলারগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহত মো. ওসমান শাহপরীর দ্বীপের কোনারপাড়া এলাকার বাচু মিয়ার ছেলে। তিনি শাহপরীর দ্বীপের বাজারপাড়া এলাকার সাইফুল কোম্পানির মালিকাধীন ট্রলারের জেলে। গুলিবিদ্ধ বাকি তিন জেলেও ওই ট্রলারের। তবে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ট্রলার মালিক সাইফুল জানান, বুধবার সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ করে মিয়ানমারের নৌ বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালায়। এতে তার মালিকাধীন ট্রলারে গুলিবিদ্ধ চারজনের মধ্যে একজন মারা যান। এরপর পাঁচটি ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লাদের মিয়ানমারে নিয়ে যায় তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার জব্দ করা ট্রলারগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত ও আহত জেলেদের নিয়ে ট্রলারগুলো শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ট্রালারগুলো ঘাটে পৌঁছেনি।
আরেক ট্রলার মালিক মতিউর রহমান জানান, ধরে নিয়ে যাওয়া ট্রলার ও মাঝি মাল্লাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিহত জেলেকে নিয়ে ট্রলারটি ঘাটে পৌঁছালে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ।
কোস্টগার্ড শাহপরীর দ্বীপের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ট্রলারটি ঘাটে আসার অপেক্ষায় আছি। ঘাটে আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে বাকি চারটি ট্রলারও ছেড়ে দিয়েছে বলে শুনেছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।