Tuesday 25 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে চবি’র ৯ ছাত্রীর সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৮

সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সারাবাংলা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি বহিষ্কৃত নয় ছাত্রী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হল’র সামনে রাখা নৌকা আকৃতির বসার স্থান ভাঙচুর করতে যান কিছু শিক্ষার্থী। এতে ওই হলের আবাসিক ছাত্রীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কয়েকজন সাংবাদিক এ ঘটনার ভিডিওধারণ শুরু করলে ছাত্রীরা তাদের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি’র সদস্যরা সেখানে গেলে হলের আবাসিক ছাত্রীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় সহকারী প্রক্টরকে লাঞ্ছিত করা, ধর্ম অবমাননাসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিন কমিটির এক সভায় ১২ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়।

তবে আবাসিক হলের ছাত্রীরা বলছেন, তারা নৌকা ভাঙার বিপক্ষে অবস্থান নেননি। তাদের দাবি ছিল, কোনো শিক্ষার্থী নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই যেন সেটা ভেঙ্গে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কিছু ছাত্র একটি মিছিল নিয়ে হলের সামনে এসে ভাংচুর শুরু করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চতুর্পাক্ষিক ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করে একাধিক অভিযোগ সৃষ্টি হয়, যেখানে হলের আবাসিক ছাত্রীদের একপাক্ষিকভাবে দোষারোপ করা হয়েছে। এখানে প্রথমত প্রশাসন মেয়েদের হলের সামনে ও মেয়েদের হল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বারংবার বলার পরও প্রক্টর স্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।’

সুমাইয়া বলেন, ‘মেয়েদের সঙ্গে সহকারী প্রক্টর অশোভন আচরণ করেছেন, গালিগালাজ করেছেন। হাসিনার দোসর, ফ্যাসিস্ট বলে ট্যাগ দিয়েছেন। এ পর্যায়ে অশোভন আচরণ করা সহকারী একজন প্রক্টরকে একজন ছাত্রী আঘাত করেছে। উনার আচরণ, ভাষা প্রয়োগ ইত্যাদি কারণে উনি সহকারী প্রক্টর না কোনো আক্রমণকরী পুরুষ তা বুঝার কোনো উপায় ছিল না। রাতের বেলা আধা মাইল দূর থেকে মিছিল করে আসা ছাত্রদের মেয়েদের হলে আসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন নিজেদের অপরাধ ও অপকর্ম ঢাকতে কেবল মেয়েদেরই শাস্তি দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে নতুন হল প্রশাসন নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে আমরা একাধিক বার হলের নাম পরিবর্তন এবং গেটের সামনে নৌকা ভেঙে এখানে বসার ব্যবস্থা করার জন্য বলে আসছি। এ উদ্দেশ্যে প্রশাসনের কাছে দুবার অফিশিয়ালি দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। ওনারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে ওনারা শীঘ্রই এই কাজ করবে৷ সেখানে প্রশাসন নিজের দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে এবং এ ব্যর্থতার দায়বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

চবি প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘আক্রমন ও ভাংচুরকারী ছাত্রদের হামলায় বাধা দিতে ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। হামলাকারী ছাত্রদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাংবাদিকতার নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে মেয়েদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণকারী এবং উগ্র আশোভন নারী বিদ্বেষী আচরণকারী তথাকথিত সাংবাদিকদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

‘অন্যায়ভাবে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ আজকের মধ্যেই প্রত্যাহার করতে হবে এবং এ বহিষ্কারাদেশের সঙ্গে জড়িত প্রোক্টরিয়াল বডি অপসারণের আগে আর কোনো বিচার প্রক্রিয়া চালানো যাবে না। এ ঘটনা কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কারণে প্রধান প্রক্টর তানভির মোহাম্মদ হায়দার আরিফ স্যারকে ভুল স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে।’

সারাবাংলা/আইসি/এসআর