Wednesday 26 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৩ মার্চ ১৯৭১: ঘোষণা হয় স্বাধীনতার ইশতেহার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ মার্চ ২০২৫ ০৮:০০ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২৫ ০৪:১০

স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ। এদিন সারাদেশে পূর্ণদিবস হরতাল পালিত হয়। এই দিনে তৎকালীন পল্টন ময়দান থেকে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের জনসভা থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। সেদিনই ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ নেন।

ছাত্র নেতা নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। ইশতেহারে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে। ঠিক হয়, বাংলাদেশের পতাকা হবে সবুজ জমিনের মাঝে লাল সূর্য, মাঝে সোনালী মানচিত্র।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার দলিলপত্রে উল্লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ‘এই সভা পাকিস্তানী উপনিবেশবাদ শক্তির লেলিয়ে দেওয়া সশস্ত্র সেনাবাহিনী কর্তৃক বাঙালীদের ওপর গুলিবর্ষণের ফলে নিহত বাঙালী ভাইদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করিতেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করিতেছে এবং পাকিস্তানী উপনিবেশবাদ শক্তির সেনাবাহিনীর এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়িয়া তোলার জন্য আহ্বান জানাইতেছে।’

যেখানে বলা হয়, ‘৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গমাইল ভৌগোলিক এলাকার ৭ কোটি মানুষের জন্য আবাসিক ভূমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম এ রাষ্ট্রের নাম “বাঙলাদেশ”। স্বাধীন ও সার্বভৌম “বাঙলাদেশ” গঠনের মাধ্যমে নিম্নলিখিত তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে:’

‘(১) “স্বাধীন ও সার্বভৌম বাঙলাদেশ” গঠন করে পৃথিবীর বুকে একটি বলিষ্ঠ বাঙালী জাতির কৃষ্টি, বাঙালীর ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পূর্ণ বিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘(২) “স্বাধীন ও সার্বভৌম বাঙলাদেশ” গঠন করে অঞ্চলে অঞ্চলে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বৈষম্য নিরসনকল্পে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করে শ্রমিক রাজ কায়েম করতে হবে” এবং “স্বাধীন ও সার্বভৌম বাঙলাদেশ” গঠন করে ব্যক্তি, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে।”

‘(৩) “স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে ব্যক্তি, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে।”

এ দিন চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয় ৭১ জন। এদিকে ৩ মার্চ সারা দেশে পূর্ণ দিবস হরতাল শেষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেটে গোলযোগ হয়। পরদিন দৈনিক আজাদের খবরে উঠে আসে, এদিন রাজশাহীতে টেলিফোন অফিসের সামনে সামরিক বাহিনীর গুলিতে আহতদের স্থানীয় মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংকের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। এ সময় আহতদের কয়েকজন ব্যাংকের দেয়ালে তাদের দেহ থেকে নিঃসরিত রক্ত দিয়ে ‘বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ কথা লেখেন।

[তথ্য সংগ্রহ: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, “১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ” এবং “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস” বইয়ের পাতা থেকে]

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম