ঢাকা: টেকসই পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য একটি আলাদা মন্ত্রণালয় চান শিল্প মালিকরা। তারা বলছেন, একক খাত হিসেবে রফতানি আয়ের বড় উৎস পোশাক খাত। তবে, বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানামুখী নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে দীর্ঘমেয়াদী নীতি দরকার, এজন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা জরুরি।
শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পোশাক মালিকরা এসব কথা বলেন। বিজিএমইএ নির্বাচনী জোট-ফোরাম সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা ও ইফতারের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ফোরাম প্যানেল লিডার মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘ফোরাম যদি দায়িত্ব পায় আগামী দিনের বিজিএমইএ সভাপতি কেন্দ্রিক বিজিএমইএ হবে না। প্রত্যেককেই প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। ফোরাম নির্বাচিত হলে প্রত্যেক ইসি সদস্যের আলাদা দায়িত্ব থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন এরইমধ্যে প্রায় ৭০০ ভোটার বাতিল হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ভোটার ছিল না। তারা কিভাবে ভোটার হয়েছিলেন, তা আপনাদের জানা। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ভোটকে কেন্দ্র করে যেন আগামী দিনে এ ধরনের অসুস্থ চর্চা না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফোরাম নির্বাচিত হলে পোশাক খাতের জন্যে আলাদা মন্ত্রণালয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটিকে বিজিএমইএ’র অধীনে আনা হবে।’
মাহমুদ হাসান খান বাবু আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় পযন্ত নীতি সহায়তা দরকার পোশাক খাতের জন্য। এই খাত নিয়ে দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র চলে সব সময়। শ্রমিক অসন্তোষের নামে নৈরাজ্য তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সময়। এর পেছনে রাজনীতি জড়িত কিনা খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ শ্রমিকরা তাদের রুটি রুজি নষ্ট করতে পারে না। একইসঙ্গে কাস্টমসের নিরীক্ষা হয়রানি থেকে উদোক্তাদের রেহাই দিতে হবে। আর টেকসই নীতির জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় দরকার।’
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, ‘সরকার ব্যবসা বোঝে না, সরকারকে বোঝানোর দায়িত্ব আমাদের। যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সংগঠন হিসেবে বিজিএমইএকে ভূমিকা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো ঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। মালিকরা খুব হতাশাভাবেই কাজ করছে। সমস্যাটা সবার।’
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘পোশাক শিল্পের জন্যে এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছরের জঞ্জাল থেকে মালিকরা রেহাই চান। নানা কারণে বিজিএমইএ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বিগত দিনে। এবার একটি স্বচ্ছ ভোট হতে হবে ভারমূর্তি ফেরাতে। তাছাড়া নিয়ন্ত্রণ বহিভূর্ত কারণে কোনো কারখানা রুগ্ন হতে পারে। কিন্তু কোনো মালিক বিপদে পড়লে তার এক্সিট নাই। একটি বিশদ এক্সিট পলিসিটি করতে হবে পোশাক খাতের জন্য। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ন্যায্য দর নিয়ে দর কষাকষি বাড়াতে হবে মালিকদের। পোশাক শিল্পের জন্যে এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, ‘সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বিজিএমইএ তে দক্ষ নেতৃত্ব দরকার।’
ফোরামের সাবেক প্যানেল লিডার ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘দেশের পোশাক শিল্পকে ফোরামের নেতৃত্বে যেন একটি সুন্দর যায়গায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য কাজ হবে। ফোরাম সেক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

ফোরামের সাবেক প্যানেল লিডার ফয়সাল সামাদ
ফোরাম মহাসচিব রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, এরই মধ্যে প্রায় ৭০০ ভূয়া ভোটার শনাক্ত হয়েছে। তাদের ভোটাধিকার বাতিল করা হয়েছে। এটি খুব লজ্জার। আমরা চাইব, আগামী নির্বাচন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। মনে রাখতে হবে, এই খাত ছাড়া বাংলাদেশেরে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা যাবে না। আর বিজিএমইএ কোনো দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা যাবে না।
আরও পড়ুন-
ফোরাম সভাপতি আব্দুস সালামসহ মালিকরা পোশাক খাতের চিত্র তুলে ধরেন। এদিকে, আগামী ২৮ মে বিজিএমইএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড শনিবার (৮ মার্চ) তফসিল ঘোষণা করেছে। ২৪ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দালিখের শেষ দিন। আর সাধারণ সদস্যদের চাঁদা পরিশোধের শেষ দিন ২৯ মার্চ।