Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৭ আগস্ট ২০২৬ ২১:১৪

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: পুলিশ বাহিনীতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য যদি অনিয়মে লিপ্ত হন, তবে কেবল বিভাগীয় শাস্তি কিংবা বরখাস্ত করেই ক্ষান্ত হওয়া হবে না; বরং অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়েরের ব্যবস্থা করে কঠোর দণ্ড নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের জন্য আইনি সেবা সহজ করার উদ্দেশ্যে পুলিশি সেবাকে সর্বাত্মক ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ( ২৭ আগস্ট ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ও সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর-এর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন ও মুখোমুখি যোগাযোগ কমানোর লক্ষ্যেই পুলিশি পরিষেবাকে অনলাইন মাধ্যমে রূপান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ট্রাফিক জরিমানা পরিশোধের প্রক্রিয়া, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান এবং বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করার সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবাগুলো ইন্টারনেটভিত্তিক আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া মাঠে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত রাখতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের অপকর্ম প্রতিরোধে বিশেষ গোপন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, নাগরিকরা যেন কোনো প্রকার বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা ভীতি ছাড়া যেকোনো অনিয়মের তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে একটি গোপনীয় ‘কমপ্লেইন সেল’ সচল রাখা হয়েছে। এর ফলে অভিযোগকারী ব্যক্তি নিজের নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখেই নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ জমা দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাবেন। এছাড়াও মাঠপর্যায়ের সদস্যদের যাবতীয় নড়াচড়া তদারকি করতে এবং অনৈতিক কাজ রোধে বিশেষ গোয়েন্দা শাখাগুলোর সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে।

বহু বছরের পুরনো ও কার্যকারিতাহীন ঔপনিবেশিক আইনগুলোর আধুনিক সংস্কার সাধন করা হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে পুলিশ হেফাজতে যেকোনো প্রকার শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং ক্ষমতার অপ্রয়োগ রোধ করার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো সময়োপযোগী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগ প্রদান ও পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও মেধাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা এবং আদর্শের ওপর বিশেষভাবে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর