Friday 28 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মুন্সীগঞ্জে স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
১৬ মার্চ ২০২৫ ১৫:০১ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৫ ১৫:০৬

অভিযুক্ত আসামি মাজেদা বেগম।

মুন্সীগঞ্জ: ২০১৭ সালে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে প্রবাসী স্বামী ওয়ালিউল্লাহকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩০)। দীর্ঘ আট বছর পরে সেই স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায় আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কাজী আবদুল হান্নান এ রায় ঘোষণা দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরপরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হোসেন।

বিজ্ঞাপন

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাজেদা বেগম শ্রীনগর উপজেলার পুটিমারা গ্রামের ওয়ালিউল্লাহ মোল্লার স্ত্রী।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওয়ালিউল্লাহ মোল্লা সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতেন। তিন সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী মাজেদা বেগম আলাদা থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ওয়ালিউল্লাহ সৌদি আরব থেকে দেশে আসার পর তার স্ত্রী মাজেদা বেগমের সঙ্গে সাংসারিক নানান বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়।

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতের খাবার খেয়ে সৌদি প্রবাসী ওয়ালিউল্লাহ তার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেদিন তাকে কৌশলে হত্যা করে স্ত্রী মাজেদা বেগম। পরদিন সকাল ৬টার দিকে দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান মাজেদা।

এ সময় নিহতের বড় ভাই আহসান উল্লাহ (৬৮) মাজেদা বেগমকে দেখতে পান এবং তিনি কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে উত্তরে মাজেদা জানান, তিনি তার স্বামীর টিকিটের টাকা সংগ্রহ করার জন্য বাইরে যাচ্ছেন।

পরে দুপুর ১২টার দিকে ওয়ালিউল্লাহর বাসা থেকে গলায় কাপড়ের ওড়না পেঁচানো ও হাতে পায়ে রশি বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরে ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই আহসান উল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ জানতে পারে ওয়ালিউল্লাহর স্ত্রী মাজেদা বেগম আরও কয়েজনের সহযোগিতা নিয়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে গলায় ফাঁস দিয়ে ওয়ালিউল্লাহকে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় মৃত ওয়ালিউল্লাহর ভাই আহসান উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীনগর থানায় ভাই হত্যার দায়ে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত মাজেদা বেগমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামি মাজেদা বেগমকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা দেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের বউ আমার ছোট ভাইকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করায় আমি শ্রীনগর থানায় মামলা করি। ওই মামলার আট বছর পর আজ আদালত রায় দিয়েছেন। রায়ে আমরা বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট হয়েছি।’

আদালতের ঘোষণা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মো. হালিম হোসেন বলেন, ‘আদালত মামলা পর্যালোচনা করে সঠিক রায় দিয়েছেন। আদালতের রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি পোষণ করছি।’

সারাবাংলা/এসডব্লিউ