Tuesday 01 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে হতাশ ইসলামী আন্দোলন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৩৯ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:২০

ঢাকা: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের প্রধান মিসেস নুরুস সাবিহা, সহ প্রধান কোহিনূর বেগম ও সমন্বয়কারী হাফেজা বুশরা রোববার (২০ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, নারী সংস্কার কমিশন শনিবার (১৯ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তার প্রস্তাবনা, ভাষা ও যুক্তি আমাদের হতাশ করেছে। পশ্চিমের ধর্মবিমুখ, পরিবার বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদের বিকৃত বিকাশের পটভূমিতে বিকশিত নারীবাদী চিন্তার পাটাতনে ও ভাষায় নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা এদেশের নারীর হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাস, চরিত্র, মেজাজ ও সংস্কৃতির সাথে সম্পূর্ণরুপে সাংঘর্ষিক।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে মিসেস নুরুস সাবিহা বলেন, এই কমিশনের সদস্য নিয়োগের সময়ই প্রথম ও প্রধান ভুলটি হয়েছে। কমিশনের প্রধান করা হয়েছে নারীপক্ষের এক নেত্রীকে। নারীপক্ষ বাংলাদেশে একটি মতাদর্শিক আন্দোলনের সাথে জড়িত যার সাথে এদেশের নারী সমাজের বৃহৎ অংশ একমত না। কমিশনে আরও যাদেরকে সদস্য করা হয়েছে, তারাও একই মতাদর্শের। ফলে এই কমিশন বাংলাদেশের নারীদের সাধারণ অংশের প্রতিনিধিত্ব করে না। প্রতিবেদনেও সেই একদেশদর্শি চিন্তা ও ভাবনার প্রতিফলন দেখা গেছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেদন তৈরিতে একাডেমিক স্বীকৃত কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় নাই। বৈষম্য, উন্নয়ন, নারীর অধিকার ইত্যাদি জরুরি ও প্রধান পরিভাষার কোনো সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। অথচ সমাজবিজ্ঞানে এই ধরনের প্রতিবেদনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা অপরিহার্য। প্রতিবেদনে কোনো তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার না করেই নানা সিদ্ধান্তমূলক মন্তব্য করে তার ভিত্তিতে নানা প্রস্তাব করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মনে হয়েছে, এটা কোনো সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন না বরং নির্দিষ্ট মতাদর্শিক আন্দোলনের প্রচারপত্র তৈরি করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশে যখন আমূল সংস্কার ভাবনায় গোটা জাতি উন্মুখ হয়ে আছে তখন এই ধরনের নিম্নমানের প্রপাগান্ডা ধরণের প্রস্তাব সংস্কার কার্যক্রমকেই বিতর্কিত করবে।

নারী নেত্রী মিসেস নুরুস সাবিহা বলেন, প্রতিবেদনে এক জায়গায় উপ-শিরোনাম করা হয়েছে, ‌‘পুরুষের ক্ষমতা ভেঙ্গে গড়ো সমতা’। এই ধরনের ভাষা ও প্রতিপাদ্যই তাদের চিন্তা ও সমাজ বিচ্ছিন্নতা প্রমান করে। বাঙালি নারী কখনোই পুরুষকে প্রতিপক্ষ না বরং সহযোগী ও সহকর্মী ভেবেছে। পুরুষের সাথে নারীর সম্পর্ক ক্ষমতার না বরং মায়া-মমতা ও ভালোবাসার। মায়া-মমতা ও ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই বাঙালি পুরুষ-নারীর মর্যাদা রক্ষায় নিজের রক্ত উৎসর্গ করেছে আর বাঙালি নারী-পুরুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ঘাম ঝরিয়ে সংসার গড়েছে। কমিশনের সদস্যরা নারী-পুরুষের সম্পর্ক নির্ণয়ের মূলভিত্তি নির্ধারণে ভুল করেছে ফলে তাদের প্রতিবেদন পুরোটাই ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের নারী নেত্রী আরও বলেন, আমাদের সমাজ হাজার বছর ধরে ধর্মকে প্রধান করেই জীবন পরিচালনা করেছে। ধর্ম তার বহুমাত্রিক ব্যবস্থাপনা দিয়ে নারী-পুরুষকে পরস্পর নির্ভর করেছে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন পারিবারকি আইনে ধর্ম বাদ দেওয়ার কথা বলেছে। এই প্রস্তাব তাদের অজ্ঞতা ও ধর্মবিদ্বেষী মতোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

ইসলামী আন্দোলনের মহিলা বিভাগের প্রধান নেত্রী মিসেস নুরুস সাবিহা দাবি জানিয়ে বলেন, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনকে বাতিল করতে হবে, তাদের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং বাংলাদেশের নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দেশের হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাস, চরিত্র, মেজাজ ও সংস্কৃতির অনুকুল সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করতে হবে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো