Tuesday 01 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জুলাই শহিদ জসীম উদ্দিনের মেয়ের আত্মহত্যা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৭ এপ্রিল ২০২৫ ০২:২১ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৩৪

প্রতীকী ছবি

ঢাকা: ধর্ষণের শিকার জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহিদ জসীম উদ্দিনের মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ৯টায় মোহাম্মদপুরের শেখের টেক ৬ নম্বর রোডের বি/৭০ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম লামিয়া আক্তার (১৭)।

‎প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানান, রোববার (২৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কথা ছিল মায়ের সঙ্গে। সেজন্য গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা। আজ বাজারে গিয়ে কিছু কাপড়ও কিনেছে। রাত ৮ টায় নিহতের মা রুমা বেগম ছোট মেয়েকে বাসার পাশেই মাদরাসায় দিয়ে আসতে যায়। এ সুযোগেই রাত ৯টার দিকে রুমের ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এর পর স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসে।

‎নিহতের মামা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দোকানে বসা ছিলাম। হঠাৎ করে আমার গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন করে বলে আমার ভাগনি মারা গেছে। আমি দৌড়ে হাসপাতালে এসে দেখি ভাগনির মরদেহ হাসপাতালে পড়ে আছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আমার বোন স্বামী হারা হলো। এখন মেয়েকে হারিয়েছে। আমার ভাগনির ধর্ষকরা জামিনে বাইরে এসে গেছে। এখন আমার ভাগনি চলে গেছে। আমরা কার কাছে বিচার চাইব। কে বিচার করবে আমাদের?’

‎প্রতিবেশী জামিলা খাতুন জানান, সন্ধ্যার পর মা-মেয়ে মিলে কাপড় কিনে এসেছে। আগামীকাল বিকেলে লঞ্চে করে বাড়িতে যাবে। আজ রাতে ছোট মেয়েকে নিয়ে মাদরাসায় যাওয়ার পর বড় মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। হয়তো কেউ তাকে ফোনে কোনো হুমকি-ধমকি দিয়েছে। যার কারণে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার কার কাছে চাইব।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাকারিয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‎উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পিরোজপুর উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শহিদ জসীম উদ্দীনের মেয়ে তার বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে যাচ্ছিলেন। পথে নলদোয়ানী থেকে অভিযুক্তরা পিছু নেয়। হঠাৎ পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জলিল মুন্সির বাগানে নিয়ে যায় সাকিব ও সিফাত। এক পর্যায়ে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। এমনকি তার নগ্ন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো