ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ ও তার প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে এই অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম ও মাধবী মারমা।
বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংকালে চিফ হুইপ জানান, তারা চরম অন্যায় ও অবিচারের পথ অতিক্রম করে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তারাই এখন নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে চায়।
বৈঠক সূত্রে জানানো হয়, দেশের বাইরে অবস্থান করে যারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, তাদের একটি তালিকা লিখিতভাবে আইপিইউর কাছে জমা দেওয়া হবে। তবে অন্যায়কারীদের পক্ষে আইপিইউ অবস্থান নেবে না বলে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে সংসদ সদস্যরা তাদের ওপর নেমে আসা বিগত আমলের চরম প্রাতিষ্ঠানিক দমন-পীড়ন ও আয়নাঘরের গুমের বিবরণ আইপিইউর কাছে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘ গুমের ঘটনা তুলে ধরেন। মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমান এবং হুমাম কাদের চৌধুরী আয়নাঘরে দীর্ঘ বন্দিজীবনের অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা জানান। তাহসিনা রুশদীর লুনা উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে তার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম গুম সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটেছিল।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তৎকালীন মাফিয়া শাসনের মাধ্যমে দেশে গুম ও ভয়ের আবহ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’ তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের ইতিহাসের সঙ্গে তৎকালীন দমন-পীড়নের পরিস্থিতির তুলনা করেন। সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান দেশের বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।
সার্বিক বিবরণ শুনে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে সংঘটিত এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডকে চরম অমানবিক বলে আখ্যা দেন। তিনি তার জন্মভূমি রোমানিয়ায় নিকোলাই চশেস্কুর শাসনামলের জঘন্য নির্যাতনের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতির মিল খুঁজে পান। তিনি সফর সমাপ্ত করে আইপিইউ এর গভর্নিং বডির কাছে বাংলাদেশে সংঘটিত এসব নির্যাতনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন।