Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
১৫ মার্চ ২০২৬ ২২:৫১ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৬

বাংলাদেশের ২৯০ রানের জবাব দিতে নেমে ৮২ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। মনে হচ্ছিল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটা সহজেই জিততে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু মিডল অর্ডারে সালমান আলি আগার দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি ও শেষ দিকে শাহীন শাহ আফ্রিদির কার্যকারী এক ইনিংসে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছিল পাকিস্তান।

শেষের রোমাঞ্চ শেষে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে।  শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ২৮ রান লাগত পাকিস্তানের। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের ৪৯তম ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করে ফেলেছিলেন শাহীন আফ্রিদি। শেষ ওভারে বাংলাদেশের কোনো পেসারের বোলিং কোটা বাকি ছিল না বলে চিন্তা আরও বড় ছিল। তবে পুরো ইনিংসে বাজে বোলিং করলেও শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত ১১ রানের জয় এনে দিয়েছেন রিশাদ।

বিজ্ঞাপন

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি বড় ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় জিতছিল পাকিস্তান। অর্থাৎ আজ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

রোববার (১৫ মার্চ) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ২৯০ রানের বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপদে পরে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই শাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তাসকিন আর নাহিদ রানার গতিতে ১৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এরপর ঘাজী ঘোরি ও আবদুল সামাদ প্রতিরোধ গড়তে চেয়েও পারেননি। ঘাজীকে ২৯ রানে বোল্ড করেন নাহিদ রানা। ৩৪ রান করা আবদুল সামাদকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ। ১৮তম ওভারে আবদুস সামাদ পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে যখন ফিরছিলেন পাকিস্তানের রান তখন ৮২।

এরপর সালমান আলি আগা যে ম্যাচটা এমনভাবে জমিয়ে তুলবেন কে ভেবেছিলেন! একপ্রান্ত ধরে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেছেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। সালমান আলি আগা যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের দিকেই ম্যাচ হেলে যাচ্ছে।

সেঞ্চুরির পর সালমান ফিরলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরে। ৯৮ বল খেলে ৯টি চার ৪টি ছয়ে ১০৬ রান করে ফেরেন আগা। শেষ দিকে  দুই চার আর দুই ছক্কায় ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। তবে শেষের হিসাবটা মিলাতে দেননি রিশাদ।

৫০ ওভারে ২৭৯ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ। ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার। ৫৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬২ রান খরচায় তিন উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসটা গড়েছে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে। টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। অফ ফর্মে থাকা ওপেনার সাইফ হাসান আজও খুব একটা স্বাচ্ছেন্দে ব্যাট করতে পারেননি। তবে ছন্দে থাকা তানজিদ হাসান তামিম ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। ইনিংসের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছেন।

শতরানের ওপেনিং জুটি পেয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ১০৫ রানের মাথায় সাইফ হাসান ৫৫ বলে ৩টি চারে ৩৬ রান করে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। এরপর তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে বাংলাদেশকে টেনেছেন তানজিদ হাসান তামিম। শান্ত অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৪ বলে ৩ চারে ফিরেছেন ২৭ রান করে।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়েছেন তানজিদ হাসান। ৯৪ রান থেকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ৯৮তম বলে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর তানজিদ অবশ্য ফিরেছেন দ্রুতই। ব্যক্তিগত ১০৭ রান করে ফিরেছেন আবরার আহমেদের স্পিনে। ঠিক ১০৭ বল খেলে ৬টি চার ৭টি ছক্কার সাহায্যে এই রান করেন তিনি।

মিডল অর্ডারে রান পেয়েছেন লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়। শুরুটা যেমন হয়েছিল তাতে স্কোর তিনশ পেরিয়ে অনেকদূর যাওয়ার কথা থাকলেও লিটন-হৃদয় অবশ্য সেটা করতে পারেননি। তবে দুজনের ব্যাট বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং একটা স্কোর পাইয়ে দিয়েছে।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৬১ বলে ৬৮ রান তুলেছেন দুজন। তাওহিদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। লিটন দাস ৫১ বলে ১টি করে চার-ছয়ে ৪১ বলে অপরাজিত ছিলেন।

পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৫২ রানে তিন উইজেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ।

সারাবাংলা/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর