ডারউইনে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এবার লক্ষ্য সিরিজ জয়। তবে দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে ফিরবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই পেসার মনে করেন, ঘরের মাঠে সিরিজ হার এড়াতে নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু নিয়ে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। তাই ডারউইনের সাফল্যের পর রক্ষণাত্মক মানসিকতায় চলে গেলে বিপদ হতে পারে বাংলাদেশের।
এএফপিকে দেওয়া এক অডিও বার্তায় ডোনাল্ড বলেন, দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ চাইলে ড্রয়ের কথা ভাবতে পারে। কিন্তু সেটি হবে ভুল কৌশল। তার মতে, ডারউইনে যে পরিকল্পনা কাজে দিয়েছে, ম্যাকাইতেও সেই পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখতে হবে।
ডোনাল্ডের ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়া তাদের সব অস্ত্র নিয়ে আসবে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে। দুই ম্যাচের সিরিজে সহজেই মনে হতে পারে, “এটা তো কিছুই নয়, সিরিজ হারার সুযোগ নেই”; এরপর রক্ষণাত্মক হয়ে ভাবা, “ম্যাচটা ড্র করতে পারলেই কাজ হয়ে গেছে।” বাংলাদেশকে ডারউইনে যে একই পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েছে, সেটিতেই বিশ্বাস রাখতে হবে।’
বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাও মুগ্ধ করেছে সাবেক এই প্রোটিয়া গতি তারকাকে। অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ডারউইনে যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিকে অসাধারণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন তিনি।
ডোনাল্ড বলেন, ‘আগের ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর সত্যি বলতে একটু বিধ্বস্ত লাগার কথা। কিন্তু এরপর তাদের প্রতিক্রিয়াটা ছিল দুর্দান্ত।’
ডোনাল্ডের প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, হাসানের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুই দিকে সুইং করানোর ক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট জায়গায় বল ফেলার দক্ষতা তাকে আলাদা করে তুলেছে।
‘তারা দারুণ আধিপত্য নিয়ে বোলিং করেছে। হাসান এখন অবিশ্বাস্য ফর্মে আছে। ওর জন্য আমি খুবই খুশি। কয়েক বছর আগে প্রথমবার নেটে তাকে দেখেছিলাম। তখনই মনে হয়েছিল, এই ছেলেটার দক্ষতা আছে। বলের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ, একেবারে নিখুঁত জায়গায় বল ফেলতে পারে, দুই দিকেই সুইং করাতে পারে,’ হাসানকে নিয়ে বলেছেন ডোনাল্ড।
ডারউইনে বাংলাদেশের পেসারদের সাফল্যে দলের বোলিং বিভাগের গভীরতারও প্রমাণ দেখছেন ডোনাল্ড। চোটের কারণে নাহিদ রানা না থাকলেও এবাদত হোসেনের কার্যকর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
‘বোলিং আক্রমণের গভীরতা তখনই কার্যকর হয়, যখন নাহিদ রানা না থাকলে এবাদত হোসেনের মতো একজন এসে তার কাজটা করে দিতে পারে। এটা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের গভীরতা সম্পর্কে অনেক কিছু বলে। বাংলাদেশ যে তাদের বোলিং বিভাগে গভীরতা তৈরি করছে, সেটা দেখতে দারুণ লাগছে,’ বলেছেন ডোনাল্ড।