Thursday 01 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিবাহবার্ষিকীর দিন মৃত্যুদণ্ডের রায় শেখ হাসিনার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:০৯

এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রায়ের এই দিনটি শেখ হাসিনার ৫৮তম বিবাহবার্ষিকী।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জানা গেছে, ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ মুজিবের কারাগারে থাকা অবস্থায় মা ফজিলাতুন নেছার তত্ত্বাবধানে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ হাসিনার। সেই হিসেবে আজ ৫৮তম বিবাহবার্ষিকী শেখ হাসিনার। বিয়ের কিছুদিন পর এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জেলগেটে সাক্ষাৎ হয় শেখ মুজিবের। তখন তিনি ওয়াজেদ মিয়াকে একটি রোলেক্স ঘড়ি পড়িয়ে দেন। ঘড়িটির তখনকার বাজার মূল্য ছিল ১২০০ টাকা। শেখ হাসিনা ও এম এ ওয়াজেদ মিয়া দম্পতির সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নামে দুই সন্তান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, আজ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু হয়। ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-১ তথা উসকানি, মারণাস্ত্র, ড্রোন, হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশসহ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে চানখারপুলে ছয় হত্যা ও আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোর দায়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-২ এ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-২ বা চানখারপুলে ছয় হত্যা ও আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোর দায়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দেওয়ায় মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনিও একই অপরাধে অপরাধী। তবে স্বেচ্ছায় ও সত্য বলায় তার প্রতি নমনী হন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় হাসিনা-কামাল পলাতক থাকলেও গ্রেফতার রয়েছেন মামুন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। মামলায় ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। আর ৯ কার্যদিনে চলে প্রসিকিউশন-স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক পাল্টা যুক্তিখণ্ডন। যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহিদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে।

এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর