ঢালিউডে কাজের পরিবেশ, প্রস্তুতি ও ভাবনায় বর্তমানে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের বইছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। দীর্ঘ দুই দশকের চলচ্চিত্র জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস মনে করেন, কাজের মান বজায় রাখতে এখন আর কোনো সমঝোতা বা আপসের সুযোগ নেই; প্রয়োজন শতভাগ পেশাদারিত্ব ও নিবেদন। ২০০৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করা এবং একই বছর ‘কোটি টাকার কাবিন’ দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানো এই অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে দেশীয় সিনেমার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও কারিগরি টিমের কাজের প্রশংসা করে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।
আমাদের দেশের কারিগরি কুশলীদের মেধার মূল্যায়ন করে অপু বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে যারা টেকনিশিয়ান আছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। নাহলে প্রবীণ থেকে নবীন কোনো শিল্পীর পক্ষেই আজকের এই অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। তবে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের তৈরি করা এবং প্রতিনিয়ত কাজের ধরণ উন্নত করা খুব জরুরি। বর্তমানে যেসব টিম কাজ করছে, তারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি পেশাদার। প্রফেশনালিজম বলতে কাজের ক্ষেত্রে শতভাগ নিবেদনকেই বোঝায়, যেখানে কোনো ছাড় থাকবে না। আগে অনেক সময় নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দৃশ্যায়নের জায়গা বা অন্যান্য বিষয়ে আপস করতে হতো। কিন্তু এখনকার নতুন টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনে কোনো কম্প্রোমাইজ করে না। তাদের এই অদম্য মনোযোগই প্রমাণ করে তারা কতটা পেশাদার, যা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি দরকার।
স্বদেশি টিমের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সবসময়ই বিশেষ, কারণ এখানে কাজের পাশাপাশি একটা আন্তরিকতা থাকে। কাজের ভালো-মন্দ মূল্যায়ন করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে এই অভিনেত্রী জানান, আমাদের চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের এই নতুন ধারাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও কাজ করছেন এবং ‘লাল শাড়ি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন কনটেন্ট নিয়ে সক্রিয় থেকে ঢালিউডের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করছেন তিনি।