Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৩৮ বছর নখ না কেটে গিনেসে নাম তোলা সেই মানুষটি!

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১১

আপনি হয়তো সপ্তাহে একবার, নয়তো মাসে একবার নখ কাটেন। কিন্তু কল্পনা করুন— ৩৮ বছর ধরে একবারও না কাটলে কী হতে পারে! ঠিক এমনই অবিশ্বাস্য কাণ্ড করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ নাম তুলেছেন মেলভিন ফিজেল বুথে।

কে এই মেলভিন ফিজেল বুথে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের পন্টিয়াক শহরের বাসিন্দা ছিলেন মেলভিন। ২৭ বছর পন্টিয়াক জেনারেল হাসপাতালে চাকরির পর অবসর নেন। এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। সবকিছু আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মতো হলেও একটি বিষয়ে সবার থেকে আলাদা ছিলেন তিনি। তার জীবনের একটি সিদ্ধান্ত তাকে বানিয়েছে অসাধারণ। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে টানা ৩৮ বছর নিজের হাতের নখ কাটেননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নখগুলো শুধু বড় হয়নি— বরং হয়ে উঠেছে এক ধরনের জীবন্ত ইতিহাস!

বিজ্ঞাপন

কতটা লম্বা হয়েছিল নখ?

গিনেসের হিসাব অনুযায়ী, তার বাম হাতের পাঁচ আঙুলের নখ মিলিয়ে দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩০ ফুটেরও বেশি! প্রতিটি নখই যেন আলাদা আলাদা একেকটা রেকর্ড।

কেন এমন সিদ্ধান্ত?

মেলভিন নিজেই জানিয়েছেন, শুরুটা ছিল একেবারে শখের বশে। কিন্তু সময় গড়াতে গড়াতে সেটা হয়ে ওঠে লক্ষ্য, আর শেষে— রেকর্ড ভাঙার নেশা। তিনি বলতেন, ‘সবাই যা করে, আমি তা করতেই চাইনি।’

দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে চলতেন?

নখ এত লম্বা হলে দৈনন্দিন কাজ সহজ নয়—
জামা পরা,
হাত মেলানো,
এমনকি দরজা খোলাও ছিল এক ধরনের চ্যালেঞ্জ!
তবু তিনি ধৈর্য হারাননি। নিয়মিত নখ পরিষ্কার করতেন, বিশেষভাবে যত্ন নিতেন, যেন ভেঙে না যায়।

শেষমেশ গিনেসে নাম

দীর্ঘ ৩৮ বছরের অপেক্ষা শেষে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃতি দেয় তার এই অদ্ভুত কীর্তিকে। একজন সাধারণ মানুষের অস্বাভাবিক অধ্যবসায়— তাকে এনে দেয় বিশ্বজোড়া পরিচিতি।

মজার ভাবনা

যেখানে আমরা একটুখানি বড় হলেই নখ কেটে ফেলি, সেখানে মেলভিন প্রমাণ করেছেন— মানুষ চাইলে নখ দিয়েও ইতিহাস গড়তে পারে!

অতঃপর

৬১ বছর বয়সে ২০০৯ সালে তাকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস খেতাব দেওয়া হয়েছিল। রেকর্ড করার সাত মাস পরই মারা যান মেলভিন। তবে এখনো কোনো পুরুষ তার এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। সবশেষ এই বিভাগে রেকর্ড করেন ভারতের শ্রীধর চিল্লাল। তার নখ ৩০ ফুট লম্বা।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন