Sunday 26 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রসেটা স্টোন: প্রাচীন সভ্যতার ভাষা উন্মোচনের নীরব সাক্ষী

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:৫৫

ইতিহাসের বুকে পড়ে থাকা একখণ্ড ভাঙা পাথর কীভাবে একটি বিলুপ্ত সভ্যতার হাজার বছরের নীরবতা ভেঙে দিয়েছিল, রসেটা স্টোন তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ১৭৯৯ সালের জুলাই মাসের এক উত্তপ্ত দিনে মিশরের নীল নদের বদ্বীপ অঞ্চলে ফরাসি সেনাবাহিনীর সৈন্যরা দুর্গের সংস্কার কাজ করার সময় দৈবক্রমে খুঁজে পায় এই প্রাচীন ফলকটি। মাটির গভীর থেকে উদ্ধার হওয়া এই পাথরটি কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছিল না, বরং এটি ছিল এমন এক রহস্যময় চাবিকাঠি, যা শত শত বছর ধরে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকা প্রাচীন মিশরীয় লিপির অর্থ উদ্ধারের পথ প্রশস্ত করে।

তিনটি ভাষার এক অনন্য সমন্বয়

রসেটা স্টোনের বিশেষত্ব হলো এর গায়ে খোদাই করা একই বার্তা তিনটি ভিন্ন লিপিতে লেখা ছিল। গ্রানাইট শিলাখণ্ডের গায়ে ওপরের অংশে ছিল প্রাচীন মিশরীয় চিত্রলিপি বা হায়ারোগ্লিফিক্স, মাঝের অংশে ছিল ডেমোটিক লিপি এবং নিচের অংশে ছিল প্রাচীন গ্রিক ভাষা। যেহেতু গ্রিক ভাষাটি আধুনিক যুগের ইতিহাসবিদদের কাছে পরিচিত ছিল, তাই গবেষকরা এই গ্রিক অংশটিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে ওপরের অচেনা চিত্রলিপিগুলো বোঝার চেষ্টা শুরু করেন। এই পাথরটিই ছিল মূলত একটি রাজকীয় ডিক্রি, যা খ্রিস্টপূর্ব ১৯৬ অব্দে রাজা পঞ্চম টলেমি কর্তৃক জারি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পাঠোদ্ধারের দীর্ঘ যাত্রা ও জেঁ-ফ্রাঁসোয়া শাঁপোলিওঁ

রসেটা স্টোন আবিষ্কারের পর প্রায় দুই দশক ধরে বহু পণ্ডিত এর রহস্যভেদের চেষ্টা করেন। তবে চূড়ান্ত সাফল্য আসে ১৮২২ সালে ফরাসি গবেষক জেঁ-ফ্রাঁসোয়া শাঁপোলিওর হাত ধরে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, হায়ারোগ্লিফিক্স কেবল ছবি নয়, বরং এগুলো নির্দিষ্ট ধ্বনি ও অক্ষরের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি সফলভাবে এই চিত্রলিপিগুলোর সাংকেতিক কাঠামো ভেঙে ফেলতে সক্ষম হন। শাঁপোলিওর এই আবিষ্কারের মাধ্যমেই আধুনিক ইজিপ্টোলজি বা মিশরবিদ্যার প্রকৃত যাত্রা শুরু হয় এবং আমরা ফারাওদের আমলের ইতিহাস, শিল্পকলা ও জীবনযাত্রার সঠিক তথ্য জানার সুযোগ পাই।

ইতিহাস ও আধুনিক সভ্যতার সংযোগস্থল

বর্তমানে রসেটা স্টোন ব্রিটিশ মিউজিয়ামের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে সংরক্ষিত আছে। এটি কেবল একটি পাথরের খণ্ড নয়, বরং এটি মানবজাতির জ্ঞান আহরণের এক অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ১৭৯৯ সালের সেই আবিষ্কার প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, সঠিক তথ্যপ্রমাণ এবং বিশ্লেষণের সমন্বয়ে যেকোনো জটিল রহস্য সমাধান করা সম্ভব। আজ আমরা প্রাচীন মিশরের পিরামিড, মমির কথা কিংবা ফারাওদের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে যে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছি, তার মূলে রয়েছে এই রসেটা স্টোনের পাঠোদ্ধার, যা আমাদের সভ্যতার সংযোগসূত্রকে আজও অম্লান করে রেখেছে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর