Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আজ সুতা কাটার দিন বা ‘থ্রেড দ্য নিডল ডে’

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:১৩ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১৮:১৯

সামনে টেবিলের ওপর রাখা একটা ছোট্ট সুঁই আর আঙুলের ডগায় ধরা সরু একগাছা সুতো। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে, এক চোখ বন্ধ করে, পরম মনোযোগ আর অসীম ধৈর্য নিয়ে সুতোর মাথাটা সুঁইয়ের ক্ষুদ্র ছিদ্রে গলিয়ে দেওয়ার যে চিরচেনা দৃশ্য, তা আমাদের সবার ঘরেই খুব পরিচিত। প্রথমবারে না হলে সুতোর মাথাটা একটু ভিজিয়ে নিয়ে আবারও সুঁইয়ের মুখের দিকে একাগ্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার এই মুহূর্তটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক দারুণ দর্শন। সুঁই-সুতোর এই নিখুঁত মেলবন্ধন আর জীবনের গভীর মনোযোগকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর ২৫ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘জাতীয় সুঁইয়ে সুতো পরানো দিবস’ বা ‘ন্যাশনাল থ্রেড দ্য নিডল ডে’। সাধারণ কাপড়ের ছেঁড়া অংশ সেলাই করার এই চেনা অনুষঙ্গটি কীভাবে মানুষের জীবনে ধৈর্য আর মনোযোগের এক মস্ত বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে, তা মনে করাতেই এই অদ্ভুত ও শিক্ষণীয় দিনটির উৎপত্তি।

বিজ্ঞাপন

কঠিন সব পরিস্থিতির গোলকধাঁধা পেরিয়ে সুঁই গলে বেরিয়ে আসার জাদুকরী কৌশল

ইংরেজি ভাষায় ‘থ্রেড দ্য নিডল’ বা সুঁইয়ে সুতো পরানো কথাটি কেবল সেলাইয়ের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আসলে বিশ্ব রাজনীতি, কূটনীতি এবং সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক দারুণ রূপক শব্দ। যখন কোনো মানুষ বা কোনো দেশের নেতা দুটি চরম বৈরী ও কঠিন পরিস্থিতির মাঝখান দিয়ে কোনো ক্ষতি ছাড়াই অত্যন্ত চতুর ও নিখুঁতভাবে নিজের পথ বের করে নেন, তখন তাকে এই শব্দের সাথে তুলনা করা হয়। ঠিক যেমন একটা সরু সুতোকে বহু কসরত করে সুঁইয়ের ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে পার করতে হয়, তেমনি জীবনের নানা জটিল সমস্যা, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা কঠিন সম্পর্কের টানাপোড়েনকে ঠাণ্ডা মাথায় বুদ্ধির জোরে সামাল দেওয়ার নামই হলো সুঁইয়ে সুতো পরানো। আজকের এই দিনটি আমাদের চারপাশের সেই সমস্ত কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোকে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে ও ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করার কথা মনে করিয়ে দেয়।

শৈশবের সেই ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা আর নস্টালজিয়ার হাতছানি

আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতেও কিন্তু এই সুঁইয়ে সুতো পরানোর এক দারুণ ঐতিহাসিক ও আনন্দদায়ক ঐতিহ্য রয়েছে, যা গ্রামীণ খেলাধুলার এক অন্যতম বড় আকর্ষণ। স্কুল-কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কিংবা গাঁয়ের মেঠো পথে নারীদের জন্য আয়োজিত অন্যতম জনপ্রিয় ইভেন্ট হলো এই ‘সুঁই-সুতো দৌড়’ খেলা। এক হাতে সুঁই আর অন্য হাতে সুতো নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে নিখুঁতভাবে সুতোটি পরিয়ে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছানোর সেই দৃশ্যটি যেকোনো সাধারণ মানুষের মনে শৈশবের সোনালী দিনগুলোর নস্টালজিয়া জাগিয়ে তোলে। এটি কেবল একটি খেলা ছিল না, এটি ছিল চলন্ত অবস্থায় মানুষের চোখের দৃষ্টি ও হাতের আঙুলের মধ্যকার এক অপূর্ব সমন্বয় ও একাগ্রতার পরীক্ষা, যা আজকের আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসেও সমানভাবে রোমাঞ্চকর।

জীবনের সব ছেঁড়া সম্পর্ককে সুতোর বাঁধনে জুড়ে দেওয়ার এক মোক্ষম সুযোগ

ব্যস্ত এই জীবনের চাকা যখন প্রচণ্ড গতিতে ঘোরে, তখন ছোটখাটো নানা কারণে আমাদের অনেক প্রিয় সম্পর্ক বা বন্ধুত্বের সুতো মাঝপথে ছিঁড়ে যায়। আজকের এই বিশেষ দিনটি কেবল ঘরের কোণে পড়ে থাকা সুঁই-সুতো হাতে নেওয়ার দিন নয়, এটি মূলত মানুষের ভেতরের সেই সমস্ত আলগা হয়ে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কগুলোকে নতুন করে জোড়া লাগানোর এক সুন্দর বার্তা বহন করে। অসীম ধৈর্য আর পরম মমতায় যেভাবে একটি সুতো সুঁইয়ের বুক চিরে কাপড়ের ছেঁড়া অংশকে ঠিক করে দেয়, তেমনি আমরাও পারি আমাদের জীবনের সমস্ত মান-অভিমান ভুলে মানুষের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিতে। জীবনের সব জটিল জটগুলোকে ঠাণ্ডা মাথায় খুলে ফেলে, সম্পর্কের সুতোকে আরও একবার মজবুত করে বেঁধে নেওয়ার এক মিষ্টি ও মানবিক আহ্বান জানিয়েই শেষ হয় ধৈর্য ও মনোযোগের এই জাদুকরী দিনটি।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন