Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মানসিক শান্তির খোঁজে ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’!

নাজনীন লাকী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৪

পুরোনো চকোলেটের প্যাকেট, কোনো জিনিস কিনলে তার খালি বাক্স, বা অকারণ প্লাস্টিকের প্যাকেট, এগুলো ঘরের কোণে জমিয়ে রাখার অভ্যাস হয়তো আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু আজকের প্রজন্ম এই অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ঘরকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মুক্ত বা ‘ডিক্লাটারিং’ করতেই বেশি আগ্রহী। এই ধারণাটি কেবল ঘরকে বড় দেখায় না, বরং মনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপও দূর করতে পারে। ঘর সাজানো এবং অকারণ আবর্জনা থেকে মুক্তি পাওয়ার এই নতুন ও জনপ্রিয় পদ্ধতিই হলো ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ (Swedish Death Cleaning)। বিশ্বব্যাপী এই মুহূর্তে ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে এটি অন্যতম আলোচিত ট্রেন্ড। নাম শুনে খানিকটা ভীতি বা অবাক লাগলেও, এই পদ্ধতির পেছনের আসল ধারণাটি খুবই সাধারণ এবং বাস্তবসম্মত। সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং-এর লক্ষ্য হলো, আপনার ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় বস্তুগুলোকে সরিয়ে ফেলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অঘটন ঘটলে আপনার অনুপস্থিতিতে প্রিয়জনদের ওপর সেই আবর্জনা পরিষ্কারের চাপ না পড়ে।।

বিজ্ঞাপন

আসুন জেনে নেই, দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠা ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’এর বিস্তারিত…

‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ কী এবং এর উৎপত্তি কোথায়?

নামটি থেকেই বোঝা যায়, এর জন্ম সুইডেনে। স্থানীয় ভাষায় একে ‘দোসিতনিং’ (Döstädning) বলা হয়। ‘দো’ (Dö) মানে মৃত্যু এবং ‘সিতনিং’ (Städning) মানে পরিষ্কার করা। ২০১৭ সালে সুইডিশ লেখিকা মার্গারেটা ম্যাগনাসন-এর লেখা বই ‘The Gentle Art of Swedish Death Cleaning’-এর মাধ্যমে এই ধারণাটি সারা বিশ্বে পরিচিতি পায়।

সহজ কথায়, এই পদ্ধতির মূল বিষয় হলো একজন ব্যক্তি বেঁচে থাকাকালীনই নিজের জিনিসপত্র যাচাই করবেন এবং কেবল অতি প্রয়োজনীয় ও প্রিয় জিনিসগুলোই রেখে বাকি সব ফেলে দেবেন বা দান করে দেবেন। লেখিকা ম্যাগনাসন যদিও ৬৫ বছরের পর থেকে এটি শুরুর পরামর্শ দিয়েছেন, তবে মনের প্রশান্তি এবং ঘর পরিষ্কারের জন্য যে কোনো বয়সের মানুষ এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

মানুষ কেন এই পদ্ধতি ব্যবহার করে?

সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং মানে সব কিছু ফেলে দিয়ে ঘর খালি করে দেওয়া নয়। এর উদ্দেশ্য হলো, জীবনকে জটিলতা মুক্ত ও সহজ করা। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত আসবাব ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরা ঘর মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা বাড়ায়। একটি গোছানো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলে দিনের ক্লান্তি অনেক দ্রুত দূর হয় এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।

কীভাবে শুরু করবেন সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং?

পোশাকের আলমারি থেকে শুরু করুন:
প্রথমেই আপনার পোশাকের আলমারিতে হাত দিন। যে কাপড়গুলো গত এক বছরে একবারও পরেননি, অথবা যেগুলো আপনার মাপে ঠিক হচ্ছে না, সেগুলো আলাদা করুন। ভালো অবস্থায় থাকা পোশাকগুলো কাউকে দান করে দিন এবং ব্যবহার অনুপযোগীগুলো রিসাইকেলের জন্য পাঠিয়ে দিন।

বড় জিনিসপত্র পরিষ্কার করুন:
গ্যারেজ, চিলেকোঠা বা খাটের তলায় জমে থাকা পুরোনো ভাঙা আসবাব, ইলেকট্রনিক্স জিনিস, বা অব্যবহৃত বড় বড় বাক্সগুলো পরীক্ষা করুন। যে জিনিসগুলোর আর কোনো ব্যবহার নেই, সেগুলো ঘর থেকে সরিয়ে ফেলুন।

কেবল প্রয়োজনীয় জিনিস কিনুন:
এই পদ্ধতির একটি প্রধান নিয়ম হলো, নতুন করে ঘরে আর কোনো আবর্জনা না জমানো। তাই নতুন কিছু কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘এটি কি আপনার সত্যিই দরকার?’ যদি সত্যিই প্রয়োজন না থাকে, তবে কেনা থেকে বিরত থাকুন।

ডিজিটাল ফাইল গোছান:
শুধু ঘরের আসবাবপত্রই নয়, ভার্চুয়াল জগতেও ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ প্রয়োজন। আপনার ল্যাপটপ বা ফোনে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় মেইল, ডুপ্লিকেট ছবি ও ফাইল ডিলিট করুন। গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে রাখুন এবং পাসওয়ার্ডগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।

পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করুন:
যদি কোনো উপহার, পুরোনো বাঁধানো ছবি, বা পারিবারিক ঐতিহ্যবাহী জিনিস আপনার নিজের রাখার ইচ্ছে না থাকে, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে কথা বলুন। তাঁদের মধ্যে কেউ সেটি রাখতে আগ্রহী কি না তা জেনে নিন।

আবেগের জিনিসগুলো সবার শেষে রাখুন:
পুরোনো চিঠি, ডায়েরি, অ্যালবাম বা কোনো বিশেষ স্মারকের সাথে মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই এগুলো প্রথমেই গোছাতে গেলে আপনার ঘর পরিষ্কারের গতি কমে যাবে। সবকিছু সহজ মনে ফেলে দেওয়ার পর, সবার শেষ ধাপে আবেগের জিনিসগুলো নিয়ে বসুন।

সবশেষে বলা যায়, ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ মানে শুধুই ঘর ফাঁকা করা নয়, বরং আপনার জীবনে যে জিনিসগুলোর সত্যিই মূল্য রয়েছে, সেগুলোকে যত্ন করে আগলে রাখা। নিজের মনকে চাপমুক্ত করার পাশাপাশি প্রিয়জনদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর আধুনিক পদ্ধতি।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর